সম্রাট অশোক মুখবন্ধ যিশুখ্রিস্টের জন্মের তিনশো বছরেরও আগে পাটলিপুত্রের রাজপ্রাসাদ থেকে ভারতসম্রাট তাঁর পশ্চিমের রাজ্যসীমার দিকে তাকালে দেখতে পেতেন কাবুল, কান্দাহার, হিরাট থেকে উটের সারি চলেছে পশ্চিম-উত্তরে। খাইবারপাসের কাছে পাহাড়ি গাঁয়ে পারসিক, গ্রিক, আসিরিয়দের সঙ্গে নাচেগানে মেতে উঠেছে বাংলার রূপসী তরুণী। দক্ষিণে কৃষ্ণা নদীর জলে সাদা পাল তুলে বাংলার তমলুকের (তাম্রলিপ্ত) মাঝি গান গাইছে। সুদূর ইজিপ্ট, ব্যাবিলন, গ্রিস, পারস্যের জ্ঞানীগুণী, শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক সবার একটি আকাঙ্ক্ষা একবার ভারতবর্ষের মাটিতে পা দিতে হবে । তারপর গঙ্গা দিয়ে কত জল বয়ে গেছে। সেদিনের পাটলিপুত্র আজ পাটনা। দূর সমুদ্রে পাড়ি দেওয়া ভাঙা পরিত্যক্ত নৌকো যেমন শুকনো বালিতে মুখ গুঁজে অতীত স্মৃতির মধ্যে সমুদ্রের গন্ধ খোঁজে, ভারতবর্ষ আজ তেমনি একটি পরিত্যক্ত, অবহেলিত নৌকো। আমেরিকা-ইউরোপের ভোগবাদী পণ্যসভ্যতা তাকে আজ অনুকম্পার চোখে দেখে। আজকের নিঃস্ব, রিক্ত, দরিদ্র ভারতবর্ষের অতীত ঐতিহ্যের কিছুই কি অবশিষ্ট নেই? পৃথিবীর মানুষের সামনে অঞ্জলি ভরে দান করবার মতো কিছুই কি তার নেই ? আছে। শুধু আছে না, সে সম্পদ কেবল ভারতবর্ষেই আছে। দিন আসছে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে বিপন্ন বিশ্বের উজ্জ্বল উদ্ধারের চাবিকাঠির খোঁজে যখন সবাইকে অতীত-ভারতমুখী হতে হবে।