আদিম সমাজে সমবায়ের ধারণাকে বেঁচে থাকার উপায় হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। আধুনিক যুগে সমবায়কে দেখা হচ্ছে প্রধানত অর্থনৈতিক মুক্তির উপায় হিসেবে। অর্থনীতিবিদরা সমবায়কে দেখছেন গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে। কিন্তু সমবায়ের উপলব্ধিতে অর্থনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবােধও বিরাজমান। এদিকে বর্তমানে সমবায়ে সামাজিক মূল্যবােধের চেয়ে অর্থমূলের অর্জনই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই সমবায়কে মানব সংগঠন বলা হলেও অর্থনৈতিক সফলতার প্রক্রিয়ায় সমবায় সংগঠন অধিকহারে জড়িত রয়েছে। মানুষের চারিত্রিক ও মানবিক উৎকর্ষ সাধন ও সমবায়কে সামাজিকীকরণের তেমন প্রচেষ্টা চালানাে হয়নি। এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই সমবায়। কর্মসূচিগুলােতে অর্থনৈতিক বিষয়সমূহের পাশাপাশি সামাজিক বিষয়সমূহকেও প্রাধান্য দেয়া প্রয়ােজন। আর্থিক সফলতার সাথে সাথে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধিগুলাে সমবায়ে অনুপ্রবেশ করতে থাকে। তাই সমবায়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধের ভারসাম্য সৃষ্টি করতে না পারলে সমবায় প্রচেষ্টা সফল করা সুদূর পরাহত হয়ে থাকবে।