বদরুল মিল্লাত এর লেখা ও নহলী প্রকাশনীর বই "সিয়েরা ক্রনিক্যলস | Buy this book at 300 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
ভেনিসের অন্যতম বিলাসবহুল হোটেল- সেইন্ট রেজিসের চতুর্থ তলার ব্যালকনিতে একটা লাউঞ্জ চেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় লি চাইল্ডের ‘নাথিং টু লুজ’ বইটি পড়ছিল শাহেদ। পাশের সাইড টেবিলে একটা বিফইটার জিনের বোতল, কয়েকটা টনিকের ক্যান, বরফের একটা পাত্র আর একটা গ্লাসে অর্ধেক পরিমাণ টনিক মিশ্রিত জিন। ইটালির বসন্ত হলেও তাপমাত্রা এখনো দশ-বারো ডিগ্রি। তাই বেলা এগারোটার রোদটা বেশ উপভোগ করছে সে। বইটার বেশ জমজমাট একটা জায়গায় এসেছে, এমন সময় ফোনটা এলো। “আজ সন্ধ্যা সাতটায়। আপনার হোটেলের বোট-পার্কে একটা ধূসর রঙের মোটরবোট অপেক্ষা করবে, গায়ে লেখা থাকবে ‘ট্রেক্সন’। আপনি আজ রাত নয়টার এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইটে প্যারিস যাচ্ছেন। আশা করি দেখা হবে। একটু থেমে সে আরও যোগ করল, ‘প্যারিস, এয়ার ফ্রান্স,” বলেই লাইনটা সে কেটে দিল। ফোনটা টেবিলে নামিয়ে রেখে কিছুক্ষণ ওখানেই ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে রইল শাহেদ। তারপর ধীরপায়ে ব্যালকনিতে ফিরে গ্লাস ভরে একটা জিন ও টনিকের মিশ্রণ বানিয়ে লম্বা একটা চুমুক দিয়ে গ্লাসটা হাতে নিয়েই সে লাউঞ্জ চেয়ারটাতে এলিয়ে বসে আকাশের দিকে তাকাল। নীল আকাশে শুভ্র মেঘের মাঝে অনেক ওপরে একটা ঈগল এক জায়গাতেই অলসভাবে চক্কর মারছে, যেন উড়াতেই তার আনন্দ! কিন্তু একমাইল উপর থেকেও সে তার শিকারকে শনাক্ত করে এক ডাইভে এসে সেটাকে ধরতে পারে। শাহেদের মনে হলো, ঈগলটা যেন সেই রহস্যময় লোকটা, আর সে নিজেই শিকার- কোনো না কোনো জায়গায় বসে লোকটা প্রতিটি পদক্ষেপ, তার সকল কার্যকলাপের উপর নজর রাখছে!