‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ ডি. এইচ. লরেন্স-এর লেখা অনুবাদ গল্প। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। বইটিতে আছে ৯৪ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 1st Edition, 2016।
সাতখানা মাল বোঝাই বগি নিয়ে ছোট্ট চার নম্বর ইঞ্জিনটা ঝনঝন শব্দ তুলে হোঁচট খেতে খেতে সেলসটন থেকে এগিয়ে আসছিল। মোড়ের কাছ থেকে শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল গাড়িটা বুঝি প্রচণ্ড জোরে আসছে। কিন্তু চমকে ওঠা একটা বাচ্চা-ঘোড়া ঝোপঝাড় থেকে বেরিয়ে এসে এক ছুটে স্বচ্ছন্দে গাড়িটাকে হারিয়ে দিয়ে মাঝ-বিকেলের আলোয় অস্পষ্ট হয়ে মিলিয়ে গেল। রেললাইন ধরে একটি মেয়ে আন্ডারউডের দিকে হেঁটে আসছিল।
ঝোপঝাড়ের দিকে নেমে গিয়ে মেয়েটি ওর হাতের ঝুড়িটা একপাশে নামিয়ে রাখল, তারপর এগিয়ে আসা ইঞ্জিনটার চালক-মঞ্চের দিকে তাকিয়ে রইল অপলক। প্রচণ্ড শব্দ তুলে বগিগুলো একে একে ধীর ও অনিবার্য গতিতে এগিয়ে যেতে লাগল-ঝাঁকুনি তুলে এগিয়ে চলা বগিগুলো মোড় ঘুরে কপিস ঝোপগুলোর দিকে এগিয়ে চলল। ওকগাছের শুকনো পাতা সেখানে নিঃশব্দে ঝরে পড়ছে। গাছগাছালিতে ইতিমধ্যেই সন্ধ্যা নেমে এসেছে, বগিগুলোর পাশাপাশি টুকটুকে লাল শরীর ভাসিয়ে পাখিগুলো উড়ে গেল সেদিকে।
ইঞ্জিনের ধোঁয়া ফাঁকা জমিতে নিচের দিকে নেমে এসে লেগে রইল অমসৃণ ঘাসের বুকে। মাঠগুলো বিষণ্ণ আর জনহীন। জলা জমিটার শেষ প্রান্তে সরগাছে ভর্তি একটা পুকুর। মুরগিগুলো আলডার ঝোপের মাঝখান দিয়ে ছুটোছুটি শেষ করে তাদের আলকাতরা মাখানো খোঁয়াড়ে ফিরে গেছে। পুকুরের ওধারে কোলিয়ারির প্রান্তভাগটা বিকেলের বদ্ধ আলোয় অস্পষ্টভাবে ওপরের দিকে উঠে গেছে, আগুনের শিখা একটা রক্তিম ক্ষতের মতো জিভ মেলে দিয়েছে আশপাশের পাঁশুটে অঞ্চলগুলোর দিকে।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।