লেখক সতীনাথ ভাদুড়ী-এর ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ পাঠকের সামনে এসেছে চিরায়ত গল্প হিসেবে। প্রকাশক কবি প্রকাশনী। সব মিলিয়ে ২৪০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: ১ম প্রকাশ, ২০২৪।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর অবস্থান স্বতন্ত্র, চিরস্থায়ী। গল্পে-নিত্যদিনের সাধারণ বিবরণধর্মিতার মধ্যদিয়ে যিনি পৌঁছে যান স্পর্শের বাইরে। সতীনাথ ভাদুড়ী ছিলেন প্রকৃত অর্থেই সৎ একজন শিল্পী। যার বক্তব্য দৃঢ়, সংহত সুরে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় বিষয়কে। ওজস্বী শব্দ-বাক্যের ব্যবহারে, অলংকার বর্জিত ভাষায়, প্রবাদ-প্রবচনের অসামান্য প্রয়োগে ছোটগল্পে তিনি অদ্বিতীয়। বিহারের পূর্ণিয়া আর দিনাজপুরের প্রান্ত থেকে অনায়াসে যিনি খুঁজে নিয়েছেন গল্পের উপাদান।
অপরূপ প্রেরণায় স্বাধীনতার খোঁজে ছুটে চলা আপাদমস্তক রাজনীতিক এক মানুষ বাংলা ভাষায় তুলে আনলেন অখ্যাত, অজ্ঞাত, অবজ্ঞাত গ্রামের লোকদের। ভূষিত হলেন রবীন্দ্র পুরস্কারে। বোধ-বুদ্ধি-বোধির সংযোগে-সংরাগে বিচিত্রতার রূপকারের খোঁজ পেল পাঠক। অথচ জনপ্রিয়তার সমুদ্রে ভেসে যাননি। সংখ্যায় লিখেছেন অল্প; কিন্তু সৌন্দর্য বাড়িয়েছেন বাংলা সাহিত্যের ফুল গাছের। মগ্ন-অন্তর্মুখী প্রকৃতি-প্রেমী সতীনাথকে যে ‘বাগানীয়া’, ‘গোলাপীয়া’ বলে সম্বোধন করতেন কাছের বন্ধুরা। নিজের লেখার ব্যাপারে অতৃপ্ত যে লেখক প্রসঙ্গে অমর মিত্র বিনীত হয়ে লিখেছেন, ‘ঘটনাপুঞ্জের লেখক নন তিনি, ঘটনাকে ছাড়িয়ে আরও দূরে ব্যাপ্ত হতো তাঁর গল্পের চরাচর।’
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।