শেষের কবিতা ১৯২৭ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত ‘প্রবাসী’তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম রোমান্টিক উপন্যাস। উপন্যাসের নায়ক বিলেত-ফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় একজন প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক যুবক। শিলং পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে এক মোটর-দুর্ঘটনায় লাবণ্যের সাথে পরিচয় ঘটল অমিতের। যার পরিণতিতে এল প্রেম। কিন্তু অচিরেই বাস্তববাদী লাবণ্য বুঝতে পারল, অমিত একেবারে রোমান্টিক জগতের মানুষ যার সঙ্গে প্রতিদিনের সাংসারিক হিসেব-নিকেশ চলে না। ইতোমধ্যে শিলং-এ হাজির হয় কেটি (কেতকী)। হাতে অমিতের দেয়া আংটি দেখিয়ে তাকে নিজের বলে দাবি করে সে। ভেঙে যায় লাবণ্য-অমিতর বিবাহ-আয়োজন। শেষ পর্যন্ত অমিত স্বীকার করে যে, লাবণ্যের সাথে তাঁর প্রেম যেন দিঘির জল, সে জল ঘরে আনবার নয়, সেই জলে মন তার সাঁতার দেবে। আর কেতকীর সাথে সম্পর্ক ঘড়ায় তোলা জল- প্রতিদিন তুলবে, প্রতিদিন ব্যবহার করবে।