লেখক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়-এর ‘শ্রেষ্ঠ গল্প’ পাঠকের সামনে এসেছে চিরায়ত গল্প হিসেবে। প্রকাশনার দায়িত্বে মাটিগন্ধা।
গল্পকার নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর রচিত গল্পসমূহে পটভূমি হিসেবে যেমন শ্যামল বাংলার ভেজা মাটিকে ব্যবহার করেছেন তেমনই সমভাবে তিনি ব্যবহার করেছেন রুক্ষ অনুর্বর সাঁওতালদের আবাসস্থল, আবার কখনো ব্যবহার করেছেন গহীন বন। তাঁর গল্পে পটভূমিক বৈচিত্র্য যেমন লক্ষ্যনীয় তেমনই লক্ষ্যনীয় যথোপযুক্ত চরিত্র চিত্রনে। সম্ভ্রান্ত রাজপুরুষ থেকে শুরু করে দরিদ্র কৃষক থেকে হতদরিদ্র গুহাবাসী অর্ধমানুষ অর্ধ পশুপ্রবৃত্তির জান্তব প্রাণীও তার গল্পের সার্থক চরিত্র। কখনো বনগুল্ম নিজেই মূর্তিমান চরিত্র।
মানুষে-প্রকৃতিতে-পশুপ্রবৃত্তিতে মিলিয়ে মিশিয়ে চরিত্র ও পটভূমি তিনি একাকার করে দিতে সমর্থ হয়েছেন। তবে ছোটগল্পের সার্থক বৈশিষ্ট্যকে তিনি যথাযথভাবে ধারণ করতেও সক্ষম হয়েছেন। একটুখানি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত, একটুখানি তীর্যক আলো ফেলে তিনি গল্প, মানব চরিত্র, প্রকৃতির সৌন্দর্যের রহস্যময়তাকে উন্মোচন করেছেন, অস্তিত্বের লড়াইয়ে প্রাণান্ত মানবসন্তানের জীবনবেদনার সঙ্গে সঙ্গে তুলে ধরেছেন মানবত্ব থেকে পশুত্বে অবরোহন আবার কখনো বা পশুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্চর্য মানবিকায়ন।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।