‘শার্ল বোদলেয়ার : তাঁর কবিতা’ — শার্ল বোদলেয়ার-এর কলমে অনুবাদ কবিতা। অনুবাদক বুদ্ধদেব বসু। বইটি প্রকাশ করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ২৪০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 2nd Editor, 2017 নিয়ে।
ভূমিকা : শার্ল বোদলেয়ার ও আধুনিক কবিতা
‘প্রথম দ্রষ্টা তিনি, কবিদের রাজা, এক সত্য দেবতা।' কথাগুলো লিখেছিলেন, শতবর্ষের ব্যবধানে কোনও পুস্তকপীড়িত প্রৌঢ় পণ্ডিত নন, তাঁর মৃত্যুর মাত্র চার বছর পর এক অজাতশ্মশ্রু যুবক, তাঁরই অব্যবহিত পরবর্তী এক কবি, আর্তুর র্যাঁবো, তাঁর প্রথম সন্তানগণের অন্যতম। আর যেহেতু একজন কবির বিষয়ে অন্য এক কবির মন্তব্য, অত্যুক্তি হলেও, ভ্রান্ত হলেও, মূল্যবান (কেননা কেবল কবিরাই পারেন সংক্রামকভাবে সাড়া দিতে), তাই আমি এই চিরচেনা উদ্ধৃতি দিয়েই আমার এই বহুবিলম্বিত প্রবন্ধ আরম্ভ করছি। যে-পত্রে এই কথাগুলো গ্রথিত আছে তা ছত্রে ছত্রে বোদলেয়ারে ভারাক্রান্ত; দু-দিন আগে অন্য এক ব্যক্তিকে লেখা দোসর-পত্রটিও তা-ই; আমরা অনুভব করি যে বোদলেয়ারের চিন্ময় সত্তা, হেমন্তের ঝোড়ো হাওয়ার মতো, বয়ে চলেছে এই যৌবনকুঞ্জের উপর দিয়ে— কুঁড়ি ঝরিয়ে, বীজ ছড়িয়ে, ফুল ঝরিয়ে, বীজ ছড়িয়ে, মরা পাতার মতো মরা ভাবনাগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে কয়েকটি অকালপক্ব রক্তিম ফল ফলিয়ে তুলছে। 'অদৃশ্যকে দেখতে হবে, অশ্রুততে শুনতে হবে', ‘ইন্দ্রিয়সমূহের বিপুল ও সচেতন বিপর্যয়সাধনের দ্বারা পৌঁছতে হবে অজানায়, ‘জানতে হবে প্রেমের, দুঃখের, উন্মাদনার সবগুলো প্রকরণ’, ‘খুঁজতে হবে নিজেকে, সব গরল আত্মসাৎ করে নিতে হবে’, ‘পেতে হবে অকথ্য যন্ত্রণা, অলৌকিক শক্তি, হতে হবে মহারোগী, মহাদুর্জন, পরম নারকীয়, জ্ঞানীর শিরোমণি। আর এমনি করে অজানায় পৌঁছনো!
বিশেষ করে সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি কাজে লাগবে। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।