কিশোরগল্প লেখা হয় কিশোর-পাঠক তথা ছোটদের কথা ভেবেই। তাই বলে বড়দের পড়তে মানা নেই মোটেই। ওটা করে বড়রা। পাতা ওল্টানো দূরের কথা, বড়দের অনেক বই ছোটদের জন্যে ছুঁয়ে দেখাও নিষেধ। ছোটদের বইয়ের জগতে এমন বিশ্রী নিষেধাজ্ঞার পাঁচিল কোথাও নেই। উঁকি দেওয়া শুধু নয়, যে কেউ বুক ফুলিয়ে ঢুকতে পারে এ রাজ্যে। এ জন্যে প্রয়োজন শুধু শিশুর সারল্যমাখা সংবেদনশীল অন্তর আর সহজ-সরল উদার দৃষ্টিভঙ্গি। বিচিত্র বর্ণে বর্ণিল কিশোর ভুবন। কত না উৎসাহ, উদ্দীপনা, কৌতূহলে ভরা দুরন্ত কিশোরবেলা! কত না অনুভূতিপ্রবণ সংবেদনশীলতা! কৈশোরের বেশিরভাগ সময় কাটে ইশকুলে। বন্ধুদের সঙ্গে হই চই, খেলাধুলা, লেখাপড়া, ইশকুলের টিচার এমনকি ভালোমানুষ দপ্তরিটি পর্যন্ত তাই কিশোরগল্পের চরিত্র হয়েছে, বিষয়বস্তু হয়েছে। ইশকুলের বাইরে থাকে পারিবারিক পরিমন্ডল। সেখানে নিতান্ত আপনজনদের সঙ্গে অভিমান, দুষ্টুমি, খুনসুটি মিলিয়ে রচিত হয় মধুর স্মৃতি। কিশোরগল্পে সেই সব স্মৃতির প্রজাপতি ডানা ঝাপটায়, উড়ে উড়ে যায়। অসম্ভবকে সম্ভব করারও দুঃসাহসিক স্বপ্ন দেখে কিশোরেরা। স্বপ্নভঙ্গের বেদনার অভিঘাত যেমন কিশোরমানসে ঢেউ তোলে, আবার ঘুরে দাঁড়াবার প্রতিজ্ঞাও তেমনই অঙ্কুরিত হয় কিশোর মনোভূমিতেই। এই সব মিলিয়ে রফিকুর রশীদের বিপুল বিচিত্র কিশোরগল্পের ভুবন থেকে বাছাই করা ২৬টি গল্পের এক অনবদ্য সংকলন ‘সেরা কিশোরগল্প’।