সকাল সাতটায় ট্রেন এসে থামল এদিককার শেষ স্টেশন বাগেরহাটে। ট্রেন থেকে নামার আগে তিনি জানালাপথে বাইরে তাকালেন একবার। স্টেশনটা অবিকল একই রকম আছে আছে বিশাল সেই মহুয়া গাছটাও। ভরা বসন্তে গাছটি এখন ফুলে ফুলে ভরা। বাতাসে দুলে দুলে ফুলেরা যেন গাইছে বসন্ত—সংগীত। ফুলে ফুলে ঝুলে ঝুলে মহুয়া—মধু পান করছে মৌটুসি পাখিরা। অদ্ভুত ভালো লাগায় আবিষ্ট হলেন তিনি। নাক উঁচু করে বুক ভরে নিঃশ্বাস টানলেন জোরে। না, মহুয়া ফুলের মিষ্টি গন্ধটা এলো না নাকে। চোখের চশমাটা ঠিকঠাক করে উঠে দাঁড়ালেন এবার, ভিড়—ভাট্টা ঠেলে নেমে পড়লেন প্ল্যাটফর্মে। আকাশের দিকে মুখ করে আবারও বাতাস ভরলেন বুকে ছেড়েও দিলেন শব্দ করে, যেনবা ফেললেন দীর্ঘশ্বাস। বুকের গভীর গহনে যেন বেজে উঠল বেহালার সুর ছলছল করে জল জমে গেল চোখের ভেতরে। এগোতে চাইলেন তিনি মহুয়া গাছটার দিকে। কিন্তু প্ল্যাটফরম জুড়ে মানুষের হুড়োহুড়ি কলরব। তাই তিনি একটু দাঁড়ালেন। যারা নামার তারা নামছে ট্রেন থেকে। উঠবে যারা তারা উঠতে চাইছে মহাব্যস্ত হয়ে। না হলে মিলবে না সিট, দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। সময়ও মাত্র দশ মিনিট। ইঞ্জিন ঘুরে এসে লাগবে আবার। ছেড়ে যাবে খুলনামুখো