গল্পের জীবন নাকি জীবনের গল্প- সমাজমনস্ক গল্পকারের বিবেচনায় কোনটি মুখ্য প্রণিধানযোগ্য, সেই কূটতর্কে না জড়িয়ে কথাশিল্পী রফিকুর রশীদ গল্প রচনা করেন মানবজমিনের সবুজ শ্যামল চত্বরে পরিব্রাজকের মতো পা ফেলে ফেলে জীবনের অম্লধুর নির্যাস গ্রহণের মধ্য দিয়ে। মানুষ মাত্রই থিতু হয়ে দাঁড়াতে চায়। মাথার উপরে উদার আকাশ, চারপাশে আদিগন্ত সবুজ মাঠ কিংবা এক ফালি উধাও নদী এবং পায়ের তলে জমাট মাটি- এই সব মিলিয়ে দাঁড়াবার আয়োজন। এই শ্যামল কোমল মাটির বুকে কত না বিচিত্র শেকড় ছড়িয়ে জীবনরস আহরণ, এই রোদবৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে ঊর্ধ্বমুখী ডালপালা মেলে ফুলে-ফলে ভরিয়ে তোলার স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে জীবনবৃক্ষ। অথচ এই সময়ে সেই মানববৃক্ষ কতভাবেই যে শেকড়বাকড় উপড়ে হয়ে চলেছে উন্মূল, উদ্বাস্তু, ঠিকানা বিহীন- কে বলবে সেই কথা! বিচিত্র সব পাত্রপাত্রী এসে জীবনপাত্র মেলে ধরেছে এ গ্রন্থের পাতায় পাতায়। তারা গল্পকারের হাতের ক্রীড়নক নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে এই চরিত্রগুলিই নিজেদের স্বাভাবিক এবং স্বতঃপ্রণোদিত বিকাশের স্বার্থে গল্পকারের ভাবনার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেছে, আবার নতুন মাত্রায় পথও দেখিয়েছে। এ কারণেই এখানে প্রতিটি পাত্রপাত্রী স্বতন্ত্র আলোকপ্রভায় উদ্ভাসিত এবং জীবন্ত। আর এদের প্রাণসম্পদের জোরেই এ গ্রন্থের গল্পগুলি হয়ে উঠেছে প্রখর গতিময় এবং জীবনমুখী।