এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রণজিৎ গুহর জীবদ্দশায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ রচনাসহ ইতিপূর্বে অগ্রন্থিত লেখা, সাক্ষাৎকার, প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্যর সঙ্গে পত্র-বিনিময়, সাহিত্যভাবনা বিষয়ক দীর্ঘ পত্র-প্রবন্ধ, গৌতম ভদ্র ও রিচার্ড প্রাইসের ভূমিকাসহ দুটি অপ্রকাশিত উদ্ধার: বাংলার কৃষি-অর্থনীতির ইতিহাস বিষয়ে রণজিতের অপ্রকাশিত খসড়াপ্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি, এবং সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস ও স্বরূপ বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যক্রম, অগ্রন্থিত রচনা প্রসঙ্গে আলোচনা, তিনটি পত্রিকা ও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাফেজখানার সাক্ষ্যে রণজিৎ গুহ সম্পর্কে প্রতিবেদনসহ শতবার্ষিকী আলোচনা ও স্মরণসভার প্রতিবেদন। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় রণজিতের কর্মজীবনের সঙ্গীদের স্মৃতিকথার পাশাপাশি বইয়ের শেষ পর্বে থাকছে রণজিতের বাংলা বইগুলি নিয়ে বিশেষ আলোচনা, ভাবুক সভায় পঠিত বক্তৃতাগুলির লিখিত রূপ, এবং রণজিৎ গুহর ইতিহাসচিন্তা নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ।
বছর দুয়েক আগে রণজিৎ গুহর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে চর্চা হয় যথেষ্ট। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাবুক সভা-র উদ্যোগে দু-দিনব্যাপী আলোচনাসভা বসে ২০২২-এর ডিসেম্বরে। ২০২৩-এ তাঁর প্রয়াণের পর বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে রণজিৎ গুহ সম্পর্কে বিস্তর লেখালেখি হয়। স্বভাবচিন্তক বাঙালির আবেগমথিত সখের চর্চার পাশাপাশি কিছু সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজও হয়েছিল। ওই দু-বছরে প্রকাশিত এ গোত্রের প্রায় সমস্ত রচনার একটি অনলাইন তালিকা ইতিমধ্যে নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে ভাবুক সভা। শতবর্ষের নির্দিষ্ট উদ্যাপনলগ্নও আজ অতিক্রান্ত। তাহলে আবার কেন এই নতুন বই? সংক্ষিপ্ত ও সহজ উত্তর: যা-কিছু বাকি রয়ে গেছে, যে দিকগুলি অধরা থেকে গেছে, বা এমনকি যে গুটিকয়েক বিষয়ে তথ্য বা বিশ্লেষণের খুচখাচ গলদ থেকে গেছে অদ্যাবধি চর্চায়, পুনরুক্তির যাবতীয় সম্ভাবনা এড়িয়ে উৎসাহী পাঠক ও গবেষকের জন্য সেগুলি এক জায়গায় করে রাখার তাগিদেই এই দ্বিভাষিক সংকলন।