রেল স্টেশানটি ছােট। সন্ধ্যের কাছাকাছি তার পেটের মধ্যে ঢুকে পড়লাে প্রায় খালি, একটা ট্রেন। এত ফাকা, কোনাে কোনাে কামরা একেবারে জনশূন্য। বেঞ্চিগুলাে নিজেরাই নিজেদের মতন শুয়ে আছে, এমন ট্রেন কি এদেশে সম্ভব? কেন হবে না? বাণপুর লােকালের এর পরের স্টেশনটাই যে বাণপুর। পাশাপাশি দুটি স্টেশানের নামেরও বেশ মিল আছে। যেন দুই ভাই। বাণপুরের ভাই গণপুর। এখানেও আট ন’ জন মানুষ নামে। নামলাে। তাদের মধ্যে আটজন একরকম। প্রত্যেক দিনকার, অবিকল ট্রেনের যাত্রীদের মতন চেহারা, আর একজন অন্য রকম। একটি মেয়ে, সে এইরকম স্টেশান কিংবা এমন পেটরােগা লােকাল ট্রেনে ঠিক খাপ খায় না, এই ধরনের যাত্রিনীদের মানায় দূর পাল্লার লােকাল মেল ট্রেনে। ফার্স্ট ক্লাশ কিংবা এসি কম্পার্টমেন্টের জানলার ধারে বসে থাকে। থেমে থাকা প্লাটফর্মের দিকে তাকায়, কিন্তু কারুর চোখে চোখ ফেলে না।