‘রক্তে ভেজা শার্ট’ — জিয়াউল হক-এর কলমে লেখা। প্রকাশনার দায়িত্বে অনন্যা। সব মিলিয়ে ১৭৫ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: ১ম প্রকাশ, ২০২১।
প্রত্যুষে পূর্ব আকাশ আবির রঙে রাঙিয়ে নতুন দিনের নতুন সূর্য উদিত হলো। আনোয়ার বললো, দেখ কবির আজকের আকাশটা একটু বেশি রক্তরাঙা। তুই কি বুঝতে পারছিস আমাদের বিজয়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তাইতো লাখো শহিদের রক্ত বুকে নিয়ে আজ সূর্য উদিত হয়েছে। আমি বললাম, তুই ঠিকই বলেছিস। আমরা শত্রæদের মনোবল নি:শেষ করে দিয়েছি। যুদ্ধ করে টিকে থাকার ক্ষমতা ওদের নেই। আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে আনোয়ার বললো-তুই ঠিকই বলেছিস কবির। আমার কি মনে হচ্ছে জানিস? মনে হচ্ছে আজই আমরা স্বাধীনতা লাভ করবো। কিন্তু এখন গল্প করার সময় নয়। সামনে এখনও শত্রæর শেষ বাঙ্কারটি টিকে আছে। এই কথা বলেই শেষ বাঙ্কারটি টার্গেট করে সে এলএমজির ব্রাশফায়াল শুরু করলো। এরই মধ্যে তার সহযোদ্ধারা এনারগা রাইফেল থেকে গ্রেনেড ছুড়া শুরু করে দিয়েছে। কিছু সময় গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড ছোঁড়ার পরই আনোয়ার নিজের অবস্থান ছেড়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে গেলে আমি তার হাত ধরে বাধা দিলাম। কিন্তু কে শোনে কার কথা। একটু মাথা উঁচু করতেই একটি বুলেট এসে তার বাম বুক ভেদ করে বেরিয়ে গেল। মা বলে ডাক দিয়েই সে আমার কোলের উপর এলিয়ে পড়লো। ব্যথাভরা শরীর অথচ মুখে তুপ্তির হাসি। অল্প সময়ের মধ্যেই সে শহিদের খাতায় নাম লেখালো। আনোয়ারের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী সত্যিই সেদিন বিকেলের মধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেল।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের কাছে বইটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। পছন্দের তালিকায় যোগ করুন বইপোকায়।