‘রোকেয়া-জীবনী’ — শামসুন নাহার মাহমুদ-এর কলমে নারী জীবনী। প্রকাশনার দায়িত্বে সাহিত্য প্রকাশ। সব মিলিয়ে ৮৪ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 4th Printed, 2018।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের (১৮৮০-১৯৩২) স্থান একই সঙ্গে অমর আসনে এবং প্রেমের আসনে। তাঁর সাহিত্যকর্মে দৃষ্টি ও প্রকাশ-ভঙ্গির যে মৌলিকতা আমরা লক্ষ্য করি, ভাষার সারল্য, ভঙ্গির তীক্ষ্ণতা এবং রঙ্গব্যঙ্গের যে সূক্ষ্মতা তাতে প্ৰকাশ পেয়েছে, তাতে বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট রচয়িতার সম্মান হয়েছে তাঁর প্রাপ্য । তাঁর অপর সাধনক্ষেত্র নারীমুক্তির প্রয়াস। এই মুক্তি তিনি সকলের জন্যে কামনা করেছিলেন। তবে বিশেষভাবে বাঙালি মুসলমান সমাজকেই তিনি উদ্দিষ্টরূপে বেছে নিয়েছিলেন, অপরিসীম পরিশ্রম করেছিলেন তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে । তাঁর সাহিত্যসাধনা আর সমাজকর্ম প্রায়শই এক বিন্দুতে এসে মিশেছিল ।
রোকেয়ার সাধনার সফলতা ও সার্থকতা যাঁদের মধ্যে আমরা প্রত্যক্ষ করি, শামসুন নাহার (১৯০৮-৬৪) তাঁদের একজন। উত্তরকালে তিনি সুপরিচিত হন শামসুন নাহার মাহমুদ নামে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. পাশ করে তিনি অধ্যাপনা করেছেন, সেইসঙ্গে রাজনীতি করেছেন, নারী-আন্দোলন করেছেন, শিশুকল্যাণের নানাবিধ প্রয়াসে যুক্ত থেকেছেন। ভ্রাতা মুহম্মদ হবীবুল্লাহ বাহারের (১৯০৬-৮৩) সঙ্গে মিলে তিনি মর্যাদাবান সাহিত্য পত্রিকা বুলবুল সম্পাদনা করেছিলেন। জীবনী ও স্মৃতিকথামূলক বই ছাড়াও লিখেছিলেন ভ্রমণকাহিনী, গল্প ও প্রবন্ধ।
রোকেয়া-জীবনী তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। এটি কলকাতার বুলবুল পাবলিশিং হাউস থেকে তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাই প্রকাশ করেছিলেন ১৯৩৭ সালে।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত নারী জীবনী-এ আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।