গত শতাব্দীর উত্তরভাগে প্রায় চার দশক ধরে রাজনৈতিক চিত্রবদলকে সামনে রেখে সমাজের গতি নির্ধারণ প্রসঙ্গে ঘাের তর্ক-বিতর্কের জটলা, তােলপাড় করা সমাজ পরিস্থিতির মধ্যে বসে আশুবাবুকে কালাহত শিল্পী বলে কখনও মনে হয়নি, তার নিরুদ্বিগ্ন লেখনীতে অস্থিরতার ছায়া পড়েনি। আসলে, চারের দশক থেকে একশ্রেণীর মধ্যবিত্তের গল্পকার আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, যারা মধ্যবিত্তের শ্রেণীগত সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখেই তাদের সম্পর্কগুলিকে ধরতে চাইছিলেন। সামাজিক উত্তলিতার মধ্যেও একটা শ্রেণীর অন্তর্ভেদ কার্য একেবারে বিফলে যায়নি। মধ্যবিত্ত মানুষ কি করতে পারেন, কতদূর পর্যন্ত তাদের প্রত্যাশা-প্রতিজ্ঞা অগ্রসর হয়ে থমকে যায়, অবক্ষয়িত মূল্যের ভস্মস্তুপের মধ্যে বসেও সাবেকী নীতিজ্ঞানের তারা কিভাবে পাহারা দেন, এই সব চিত্র পাঠকের কাছে বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। আশুবাবুর লেখায় মধ্যবিত্ত নাগরিকতার সেই চরিত্রোদঘাটন আছে। ভীরু, সন্ত্রস্ত, সংকুচিত ও আত্মরক্ষাপরায়ণ মধ্যবিত্ত যাঁরা সত্তরের উত্তাল করা দিনগুলিতে প্রাণ বাঁচিয়ে নিত্য ঘরে ফিরতে পেরে স্বস্তি বােধ করছিলেন, তাদের পাঠকশ্রেণী তাে বেঁচেছিলেন! না হলে একঝাক মধ্যবিত্ত জীবনরূপকার কি করে সদর্পে লেখনী চালনা করে গেলেন।