"পথের পাঁচালী" বইয়ের ভূমিকার অংশ থেকে নেয়া: জীবনের মানুষের জীবনচলার যে-পথ, সেই পথেরই রেখাচিত্র আমাদের পথের পাঁচালী। সােনাডাঙার মাঠ কিংবা বেত্রবতী নদী, আমকুড়ানাে কিংবা শকুনির ডিম সংগ্রহ, বনভােজন কিংবা কাশীযাত্রা প্রভৃতি দৃশ্যপটেই রয়েছে জীবনের নানা রঙ ও নানা রসের প্রতীকী স্বাদের স্পর্শ। নিশ্চিন্দিপুরের গ্রাম কি আমাদের প্রত্যেকের গ্রাম নয়! ক্রমাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি শিশুর বড় হওয়ার কাহিনী শুনিয়ে বিভূতিভূষণ যে জীবনের পাঠ দিলেন, তা তাে কোনাে প্রথাগত বিদ্যালয়ে আমরা পাইনি। একারণেই পথের পাঁচালীর কাছে আমাদের বারবার যেতে হয়। ছােটবেলায় যেতে হয় অপু-দুর্গাকে ভালােবেসে জীবনকে চিনতে, বড় হলে যেতে হয় জীবনের মধুর শৈশবকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে বিভাের হতে। পথের পাঁচালী আমাদের জীবনেরই দর্পণ।