ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার অসম্পূর্ণ আলোকপর্বে বঙ্গীয় ভাবুক-সমাজ এবং বঙ্কিমচন্দ্ৰ চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৩৮-১৯৯৪) মতো কথাশিল্পীর বিশ্বাস ছিল মানুষ সচেতন বিবেকাংশ-চালিত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষের আচরণ ও কর্মপ্রক্রিয়াকে তার মনোচৈতন্যের সচেতন অংশের দায় হিসেবে ব্যাখ্যা করতে তাঁরা অভ্যস্ত ছিলেন। দুর্গেশনন্দিনীর আয়েষা, কপালকুণ্ডলার মতিবিধি, বিষবৃক্ষের কুন্দনন্দিনী, চন্দ্রশেখরের প্রতাপ-শৈবলিনী, কৃষ্ণকান্তের উইলের রোহিনী-গোবিন্দলাল, রাজসিংহ উপন্যাসের জেবউন্নিসা প্রভৃতি চরিত্র উপর্যুক্ত বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের আদলে নির্মিত। কিন্তু কল্লোল- পর্বের ধারণা হলো- মানুষের সক্রিয়তা কেবল বিবেকচালিত নয়, বরং লিবিডোশাসিত এবং মনোজগতের অবচেতন স্তর দ্বারা পরিচালিত।