‘পরমার্থিক জীবনের ধর্ম-দর্শন’ মিজানুর রহমান ফকির-এর লেখা দর্শন বিষয়ক গবেষণা ও প্রবন্ধ। রাবেয়া বুকস্ থেকে প্রকাশিত। এর কলেবর ১৯২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2016।
মনের জীবনের পরমার্থিক সত্য কী? মানুষ অজ্ঞানতার অন্ধকারে আপদমস্তক নিমজ্জিত। তাই সে বুঝতে পারে না কোন সময়ে কোন কাজটি করতে হবে। অর্থাৎ মানুষ সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে না। মানুষ বড়ই নির্বোধ কেননা যে নিজের জীবনের পরমার্থ কিসে নিহিত। তা বুঝে না। খাওয়া, ঘুম, মৈথুন ইত্যাদিতে কি মানব জীবনের পরমার্থ নিহিত? না, বরং মানব জীবনের হিরন্ময় সময় যৌবনকে পরমার্থিক কাজে ব্যবহার করার মধ্যেই মানব জীবনের পরমার্থ নিহিত। বড় কথা হচ্ছে মানুষের জীবনের স্বর্ণময় সময় অতিক্রম হয়ে যায় অথচ পরমার্থিক সত্য লাভের জন্য কাজ করা হয় না। সময় পার হয়ে গেলে মানুষ বুঝতে পারে যদি ঐ সময়ে ঐ যথার্থ কাজটি করতে পারতেন তাহলে জীবনে পরম সাফল্য বা পরমার্থিক জীবন লাভ করা যেত। আসলে তখন আর সময় থাকে না সেই পরমার্থিক কাজটি করার আর পরমার্থিক জীবনও লাভ করা হয় না। তাই তো কথায় বলে-"সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়।” হায়রে নির্বোধ মানুষ! খেয়ে আর ঘুমিয়ে জীবনের হিরন্ময় সময়টুকু নিঃশেষ করে দিলে অথচ সময় থাকতে ঈশ্বরের নাম জপ করলে না, ঈশ্বরের গুণের স্মরণ-সংযোগ করলে না। সব সময় ঈশ্বরের নাম-রূপ গুণের স্মরণ- সংযোগ কর আর ঈশ্বরের নাম জপ কর, সম্যক গুরুর কথামৃত পান কর জীবনকে মহাকালের বুকে ভাস্বর করে রাখ। এই কর্মের মধ্যেই পরমার্থিক জীবন নিহিত। মানুষ রূপেই ঈশ্বর লীলা করছেন। মানুষই ঈশ্বর এমনটি নয়, তবে মানুষ ঈশ্বর থেকে পৃথক কোনো সত্তা নয়।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।