কুবেরের ধমক খাইয়া গণেশ খানিকক্ষণ চুপ। করিয়া রহিল। তারপর নিজেই ধরিয়া দিল। গান । সে গাহিতে পারে না । কিন্তু তাহাতে কিছু আসিয়া যায় না। ধনঞ্জয় ও কুবের মন। দিয়া গানের কথাগুলি শােনে। যে যাহারে। ভালবাসে সে তাহারে পায় না কেন, গানে এই গভীর সমস্যার কথা আছে। বড় সহজ গান। নয়। পুবদিক লাল হইয়া উঠা পর্যন্ত তাহারা জাল ফেলিয়া বেড়াইল। তারপর রওনা হইল। জাহাজঘাটের দিকে। সেইখানে পৌছিতে পৌছিতে চারদিক আলাে হইয়া উঠিল । নদীর তীরে, নদীর জলে এখন জীবনের সাড়া পড়িয়া গিয়াছে। থাকিয়া থাকিয়া স্টিমারের। বাঁশি বাজিয়া উঠে। সশব্দে নােঙর তুলিয়া। কোনাে স্টিমার ছাড়িয়া যায়, কোনাে স্টিমার ভেড়ে গিয়া জেটিতে। কলিকাতা হইতে ট্রেনটি আসিয়া পড়িয়াছে। ঘাটের ও স্টেশনের। দোকানপাট সমস্ত খােলা হইয়াছে। অনেকে নদীর জলে স্নান করিতে নামিয়াছে। মােটরবাহী ও যাত্রীবাহী অসংখ্য ছােটবড় নৌকা ঘাটে ভিড় করিয়া আসিয়াছে । ঘাটের দিকে বহুদূর অবধি তীর ঘেঁষিয়া কাদায়-পোঁতা লগির সঙ্গে বাঁধা আরাে যে কত নৌকা তাহার সংখ্যা নাই।