কবির অনুভবের মধ্যে এক ধরনের অন্তর্গত রহস্য থাকে, যা সব সময় সরলরেখায় চলে না। কখনো তা হয় আঁকাবাঁকা, আবার কখনো বা মসৃণ। পাঠককে বুঝে নিতে হয়, কবির অনুভবের বাগানজুড়ে কোন্ রহস্য খেলা করছে? এর কারণ, কবি যা বলতে চান, তার বহুমুখী ব্যঞ্জনা সব সময় শ্রুতি কিংবা স্মৃতিতে ধরা পড়ে না। আর কবি যখন অনুভব করেন, বিচিত্র পথে চলাচলেই তার আনন্দ, তখন তিনি বিষয়ে যেমন, তেমনি নির্মাণকলায়ও নতুন নতুন দ্যোতনা তৈরি করে নিজেকে মোহিত করেন এবং পাঠককেও করেন ঘনীভূত আবেগে আচ্ছন্ন। ফলে ক্রমাগত আত্মঅতিক্রমণের মাধ্যমে কবি নিজেকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন, যা বিস্ময় সৃষ্টিকারী। ‘পাষাণের চোখে নোনাজল’ কাব্যগ্রন্থে কবি মনে রেখেছেন বিশুদ্ধ কবিতার অনুরাগের শৈল্পিক প্রকাশের প্রতি। ব্যক্তিক বা সামাজিক বিষয় ও প্রেম-বিরহ কিংবা স্মৃতিকাতর বিষয়কে শৈল্পিক ঋদ্ধতা দিয়ে নিজেকে নিজেই অতিক্রম করার ক্ষেত্রে হয়েছেন ধ্যানস্থ।