শিশু-কিশোর গল্প হিসেবে ‘পাখিগাছ ও বুড়ো কাকের গল্প’ লিখেছেন অদ্বৈত মারুত। প্রকাশক শিশু গ্রন্থ কুটির। সব মিলিয়ে ২৪ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2019।
রিতা আর রকি চোর-পুলিশ খেলছিল। একটু পরই মন দেবে অন্য খেলায়। সারাদিন ওরা কত্ত রকম খেলা খেলে-ইচিং বিচিং,এক্কাদোক্কা,ওপেন টু বায়োস্কোপ,বউচি,কানামাছি,কুতকুত,ষোলো ঘুঁটি,গোল্লাছুট,দাঁড়িয়াবান্ধা। এসব খেলা দেখে লোভ সামলাতে পারেন না দিদা। নিজের শিশুকালের কথা মনে পড়ে তার। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে তাই ডুবে যান খেলায়। কিন্তু জোহর নামাজের আজান হওয়ায় দিদা নামাজে বসে যান আজ। এদিকে খেলতে খেলতে দিদার গায়ে এসে পড়ে রকি। রকি পুলিশ আর রিতা চোর। পুলিশ রকির ছোট্ট বেতের লাঠিটা গিয়ে পড়ে দিদার পিঠে। ঠিক ওই জায়গায়,যা ঘিরে দিদার রয়েছে অনেক কষ্টের স্মৃতি। দিদা নামাজ শেষ করে আনমনা হয়ে বসে রইলেন। রিতা এসে গায়ে পড়ায় স্মৃতিতে ভেসে উঠল ঊনিশশ একাত্তর সালের কথা। সেদিনও নামাজ শেষে বসেছিলেন জায়নামাজে। রিতা আর রকি আনমনা দিদার গা-ঘেঁষে বসে। বলতে শুরু করেন সেদিনের কথা- ‘আজকের দুপুরের মতোই অন্যরকম ছিল ঊনিশশ একাত্তর সালের সেই দুপুরটা। স্পষ্ট মনে আছে,সেদিনও বাইরের দিকে তাকিয়েছিলাম। দেখি কত্তগুলো কাক। সফেদা গাছের ওপর ওড়াউড়ি করছে। আর কা-কা করছে। কিন্তু সেদিন তোমাদের দাদু ছিলেন বাস্তবে। আর আজ কেবলই ভাবনায়’- এতটুকু বলেই হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছতে লাগেন তিনি। রিতা আর রকি দিদাকে জড়িয়ে ধরে। দিদার ভেতর থেকে ফুঁপিয়ে কান্না আসছে। দিদা সামলে নেন নিজেকে। ছোট্টমোট্ট রিতা আর রকির সামনে এমন ছেলেমানুষী মানায় না,তাই।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।