“অর্থশাস্ত্র-বিচার প্রসঙ্গে" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ মানুষের জীবনীয় সামগ্রীর সামাজিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে, মানুষে-মানুষে অবশ্যম্ভাবী রূপেই নির্দিষ্ট কতকগুলি সম্পর্ক স্থাপিত হয়, সেগুলি তাদের ইচ্ছা-নিরপেক্ষ, যথা তাদের বৈষয়িক উৎপাদন-শক্তিসমূহের বিকাশে এক নির্দিষ্ট স্তরের উপযুক্ত উৎপাদন-সম্পর্ক। উৎপাদনের এই সম্পর্কগুলির সামগ্রিকতাই সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামাে, প্রকৃত বনিয়াদ, যার উপরে মাথা তুলে দাঁড়ায় এক আইনগত ও রাজনৈতিক সৌধ এবং বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট রূপের সামাজিক চৈতন্য যার অনুষঙ্গী। বৈষয়িক জীবনের উৎপাদন-ব্যবস্থা সামাজিক, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিগত জীবনের সাধারণ প্রক্রিয়াকে নির্ধারিত করে। মানুষের চৈতন্য তাদের অস্তিত্বকে নির্ধারিত করে না, বরং তাদের সামাজিক অস্তিত্বই তাদের চৈতন্যকে নির্ধারিত করে। বিকাশের এক বিশেষ স্তরে বিদ্যমান উৎপাদন-সম্পর্কের সঙ্গে কিবা—একই কথা শুধু আইনগত ভাষায় প্রকাশ করা হচ্ছে এযাবৎ সেগুলি যার কাঠামাের মধ্যে কাজ করেছে সেই মালিকানা-সম্পর্কের সঙ্গে সমাজের বৈষয়িক উৎপাদনশক্তিগুলির সংঘাত বাধে। এই সম্পর্ক উৎপাদন-শক্তিগুলির বিকাশের আকার থেকে পরিণত হয়। তাদের শৃঙ্খলে । তখন শুরু হয় সমাজ-বিপ্লবের যুগ। যে-রেলপথে কেউ ভ্রমণ করে না, সুতরাং যা ব্যবহৃত হতে হতে নিঃশেষিত হয় না, যার উপভােগ হয় না, তা অস্তিত্বগতভাবে হলেও কার্যত রেলপথ নয়। উৎপাদন ছাড়া উপভােগ হয় না, কিন্তু উপভােগ ছাড়াও উৎপাদন হয় না, কারণ সেক্ষেত্রে উৎপাদন হবে অযথা। উপভােগ উৎপাদনের জন্ম দেয় দুইভাবে।