সীমানার এপারে এসে তাদের গ্রামের অনেকেই আর ফিরে যায় না। তাদের তালিকায় আরও তিনজন যুক্ত হল। মাধব কাকা,বাবা আর কাসেম ভাইও কোনদিন ফিরবে না। লাশ তিনটে নিজের চোখে দেখেছে সে। ভালোমতো কবরও জুটলো না ওদের কপালে। যা গুজব শোনা গিয়েছিলো সব সত্যিই আছে। মানুষের মনগড়া নয়। তিনজন নয়। চারজনের নাম যোগ হবে নিঁখোজের তালিকায়। সে নিজেও তো হারিয়ে গেছে। এই জনহীন ধানক্ষেতের ধারে কোন আশা দেখতে পাচ্ছে না সে। তাকেও মরতে হবে। একটু আগে নয়তো একটু পরে। এই কালের হাত থেকে কারো মুক্তি নেই। কিছুতেই উদ্ধার পাওয়া যাবে না। তবে মোট কথা হলো সে বেঁচে আছে। ভাবনাটা প্রহসন হয়ে দেখা দিলো তার কাছে। শ্বাস নেয়ার মানে যদি বেঁচে থাকা হয় তবুও তাকে অর্ধমৃতের চেয়ে বেশি কিছু বলা যায় না। শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে তার। স্নায়ু অনেক উত্তেজিত আর শরীর ঠিক ততটাই দুর্বল। দেশে ফেরার একটা চেষ্টা করতে পারে সে। কিন্তু পথ কোথায়?