স্মৃতিময় ষাটের দশক। এই রাজনৈতিক ক্রান্তিময় সময়ে বিলাত থেকে ভাস্কর্যবিদ্যা পড়া শেষ করে দেশে এসেছেন অপূর্ব উদ্যমী এক নারী, নভেরা। সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ছেনি-হাতুড়ি নিয়ে ভাস্কর্য গড়ছেন, রাত-দিন নিমগ্ন হয়ে ভাষা আন্দোলনের স্মারক শহীদ মিনারনির্মাণ করছেন।
অভূতপূর্ব আলোড়ন তাঁকে ঘিরে। নতুন দিনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে আছেনঢাকার এই পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে, এক সুররিয়ালিস্ট প্রদর্শনী--সাদা সিমেন্ট হয়ে উঠেছে শিহরিত মুখ, আমাদের নৈঃশব্দ্য।
তারপর একদিন তিনি ফরাসি দেশে চলে গেলেন, রেখে গেলেন এক শোকার্ত অববাহিকা। সদ্য কৈশোর পেরোনো নভেরাকে মনে হয় মোগল শাহজাদি জেবুন্নেসা। পারস্যের দরবার পর্যন্ত যেতে যেতে মিনিয়েচার ফ্রেমের মধ্যে সাদাকালো ছাপা ছবিতে অকস্মাৎ ফ্রেমবন্দী হয়েছে তাঁর জীবন। তিনি যেন ফিরতে চেয়েছিলেন কোনো এক মৌসুমি দেশে।
তাঁর জীবন ছিল রহস্যময়তায় পূর্ণ। তিনি কি ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন? তাঁর আসন্ন মৃত্যুকালে, একটি পাখি আছড়ে পড়ে জানালায়, একসঙ্গে শায়িত হয় কফিনে।
অসীম নক্ষত্রতলে তাঁর ইস্পাতের পাখি যেন নীড় খুঁজে পায়নি। দর্শকের হৃদয়ে তাই এখনো ডানা ঝাপটায়...