‘নৌকাডুবি’ বইটির লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; এটি একটি চিরায়ত উপন্যাস। সালাউদ্দিন বইঘর-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৯২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024।
স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে (একালের দশম) যখন পড়ি তখন একখানি নৌকাডুবি পাইয়া পড়িতে সুরু করি। কবিগুরু তাঁহার উপন্যাসে একটি বিচিত্র প্লট সৃষ্টির জন্য অনেকগুলি মানুষকে পদ্মার জলে ডুবাইয়া মারিলেন— এই অংশ পড়িয়া আমার মনটা খারাপ হইয়া গেল। আমার মনে হইল কবি কেন এতবড় নিষ্ঠুরতা দিয়া গ্রন্থ আরম্ভ করিলেন— জানিনা আরো কত নিষ্ঠুরতার পরিচয় পড়ে আছে । কাজেই সে যাত্রা আর আগানো চলিল না ।
ইহাই হইল আমার ষোলো বৎসর বয়সের বিচার দ্বিতীয়বার যখন নৌকাডুবি পড়িতে চেষ্টা করি তখন আমি কলেজে পড়ি। তখন Dickens, Mrs. Wood, Jane Austen, Victor Hugo ইত্যাদি নভেল পড়িয়াছি। তখন বইখানার অনেক দূর পর্যন্ত পড়িয়া ছিলাম । তখন মনে হইয়াছিল— নৌকাডুবির বিচিত্র প্লট সৃষ্টি করিবার জন্য কবিগুরু তাহার একটা বাস্তব রূপ দিতে গিয়া খুব সতর্কতা অবলম্বন করিয়াছেন— কিন্তু অনেক ফাঁক থাকিয়া গিয়াছে। অথচ প্লটের সুবিধার জন্য তাহার রন্ধ্র ছিদ্র বুঝাইবার জন্য কী অসাধারণতারই না সহায়তা গ্রহণ করিয়াছেন । তাহা না হয় হইল । কিন্তু বিধাতা তাঁহার নিজের ছায়ামণ্ডপে বিশ্বপ্রকৃতিকে সাক্ষী রাখিয়া নিজের হাতে যে পরিনয় বাঁধনে রমেশ ও কমলাকে বাঁধিয়া দিলেন— তাহা হইল তুচ্ছ— আর অরক্ষণীয়ার সঙ্গে মন্ত্র পড়া আচারটাই হইল বড়? ইহা আমার ভালো লাগিল না । তাহা ছাড়া যতদূর পড়িলাম তাহাতে বাঙ্গালী জীবনের গার্হস্থ্য ও সামাজিক পরিবেশ পাইলাম না। পাত্র-পাত্রীর মুখে কথাগুলিও মার্জিত ভাষায় ।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের পড়ার তালিকায় বইটি রাখা যায়। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।