‘নৌকাডুবি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর লেখা চিরায়ত উপন্যাস। সালাউদ্দিন বইঘর-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ৩০৫ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024 নিয়ে।
রমেশ এবার আইন-পরীক্ষায় যে পাস হইবে, সে সম্বন্ধে কাহারও কোনো সন্দেহ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরস্বতী বরাবর তাঁহার স্বর্ণপদ্মের পাপড়ি খসাইয়া রমেশকে মেডেল দিয়া আসিয়াছেন- স্কলারশিপও কখনো কাঁক যায় নাই। পরীক্ষা শেষ করিয়া এখন তাহার বাড়ি যাইবার কথা। কিন্তু এখনো তাহার তোরঙ্গ সাজাইবার কোনো উৎস'হ দেখা যায় নাই।
পিতা শীঘ্র বাড়ি আসিবার জন্য পত্র লিখিয়াছেন। রমেশ উত্তরে লিখিয়াছে, পরীক্ষার ফল বাহির হইলেই সে বাড়ি যাইবে। অন্নদাবাবুর ছেলে যোগেন্দ্র রমেশের সহাধ্যায়ী। পাশের বাড়িতেই সে থাকে। তাঁহার কন্যা হেমনলিনী এবার এফ. রমেশ অন্নদাবাবুর বাড়ি চা খাইতে এবং চা না খাইতেও প্রায়ই যাইত। হেমনলিনী স্নানের পর চুল শুকাইতে শুকাইতে ছাদে বেড়াইয়া পড়া মুখস্থ করিত। রমেশও সেই সময়ে বাসার নির্জন ছাদে চিলেকোঠার এক পাশে বই লইয়া বসিত। অধ্যয়নের পক্ষে এরূপ স্থান অনুকূল বটে, কিন্ত একটু চিন্তা করিয়া দেখিলেই বুঝিতে বিলম্ব হইবে না যে, ব্যাঘাতও যথেষ্ট ছিল।
এ পর্যন্ত বিবাহ সম্বন্ধে কোনো পক্ষ হইতে কোনো প্রস্তাব হয় নাই। অন্নদাবাবুর দিক হইতে না হইবার একটু কারণ ছিল। একটি ছেলে বিলাতে ব্যারিস্টার হইবার জন্য গেছে, তাহার প্রতি অন্নদাবাবুর মনে মনে লক্ষ আছে।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।