কবিতা লিখতে ভালোবাসে কবীর। শুধুই কবিতা। বিশ্বাস জন্মেছে কবিতা লেখার জন্যই জন্ম হয়েছে তার। রাজনীতি, দেশের অস্থির অবস্থা, চাকরি, সংসার তাকে কখনো স্থির হতে দেয়নি। নিজের ভেতর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে বারবার। তখন দেখা হলো অনিতার সঙ্গে। তার হাসি, চপলতা, চঞ্চলতা, চোখের নাচন দেখে কবীরের মনে হলো, এতদিন যা লিখেছি তা প্রাণহীন। জীবনের স্পন্দন তাতে নেই। কাগজ নষ্ট করেছি শুধু। কবীর অবলীলায় এখন লিখে ফেলতে পারে, সন্ধ্যাকালে দেখেছিলাম কনে দেখা আকাশ তোমার মুখে ছুঁয়ে ছিল আমার সর্বনাশ। তবু কবীরের নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তার চারপাশ শূন্য হয়ে আসে। সে পাক খেতে খেতে পড়ে যেতে থাকে নিচ্ছিদ্র অন্ধকার গহিন শুকনো কুয়ার ভেতর। যার তল নেই। তার দম বন্ধ হয়ে আসে। আশ্চর্য কালো মেঘ তাকে টেনে নিয়ে যায় সৃষ্টিছাড়া নরকে।