‘নিষিদ্ধ নগরীর দেশে’ — মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান-এর কলমে ভ্রমণ ও প্রবাস বিষয়ক বই। বাংলাপ্রকাশ-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ১৫২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: Edition, 2026।
চীন খুব অদ্ভুত একটা দেশ। ছোটোকাল থেকে লেখকের এমনই ধারণা ছিল। বড়ো হয়ে যখন চীন দেখার সুযোগ পেলেন, তখন আরও অবাক হলেন। অদ্ভুত এ দেশটা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। দেশটির ইতিহাস হাজার হাজার বছরের। একসময় শক্তিশালী রাজপরিবার থাকলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটে। কমিউনিস্ট শক্তি দেশের সর্বময় কর্তৃত্ব নেয়। নব্বইয়ের দশকে এসে কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা অক্ষত থাকলেও অর্থনৈতিক সংস্কার ঘটে। যেন এক দেশে দুই নিয়ম! রাজনীতি এক রকম, অর্থনীতি আরেক রকম। চীনের রাজধানী বেইজিং। বিশ বছরের ব্যবধানে লেখক সেখানে গেছেন পাঁচবার। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। বিশ বছরে বহু কিছুর পরিবর্তন হলেও কিছু কিছু রয়ে গেছে একেবারে অকৃত্রিম। চিরচেনা না হলেও তা চির চীনা। পাঁচশ বছর যা ছিল সম্রাটদের প্রাসাদ, সাধারণ মানুষের কাছে যা ছিল নিষিদ্ধ নগরী, এখন সে সমগ্র নগর হয়েছে প্রাসাদ জাদুঘর। সম্রাটরা যেখানে দেবতাদের উদ্দেশে অর্ঘ্য নিবেদন করতেন, সে মন্দির চত্বরগুলো হয়েছে পাবলিক পার্ক। দু হাজার বছর আগে মঙ্গোলদের ঠেকাতে চীনের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রায় পঁচিশ হাজার কিলোমিটার লম্বা প্রতিরক্ষা প্রাচীর তোলা হয়েছিল। সে প্রাচীরের অবশিষ্ট যা আছে তা নির্মাণ সৌকর্যে ও বিশালত্বের গরিমায় পর্যটকদের বিস্মিত করে চলেছে। চীনে শিল্পবিপ্লবও ঘটেছে।
ভ্রমণ ও প্রবাস-এ আগ্রহী পাঠকদের কাছে বইটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।