‘নির্বাচিত ছোট গল্প’ — তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কলমে চিরায়ত গল্প। প্রকাশক সালাউদ্দিন বইঘর। এর কলেবর ১৬০ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2024।
পাল-পুকুরের ঘাটের উপরেই প্রকাণ্ড বটগাছটার একটা শিকড় বিশাল অজগরের মতো কুণ্ডলী পাকাইয়া গর্তের ভিতর মুখ সেঁধাইয়া যেন পিঠে রোদ পোহাইতেছে। পুলিন দাস তাহার উপর হাঁটুভাঙা দ-এর মতো উবু হইয়া বসিয়া জলে খোলামকুচি ছুড়িয়া ‘ব্যাং-ছুড়াছুড়ি' খেলিতেছিল; তাহার কাঁধে গামছা, কানে একটা পোড়া বিড়ি ।
মিতে বলাই দাস আসিয়া ডাকিল, এই যে পেলা, উঠে আয়, ওরে ও খেপাচণ্ডী, উঠে আয়! খুড়ো যে- পুলিন হাতের খোলামকুচিটা জলের পরিবর্তে মাটিতে আছড়াইয়া কহিল, টেসেছে বেটা বুড়ো?
বলাই সোৎসাহে কহিল, আর দেরি নাই, উঠে আয় । উভয়েই গ্রামের পথ ধরিল, বলাই আগে, পুলিন পিছনে । পুলিন সহসা কহিল, বউটা খুব কাঁদছে, নয় রে বলা? বলা কহিল, খু-উ-ব, আছাড়-বিছেড় করছে।
মাথাটা তাহার প্রায় ঘাড়ের নিকটে হেলিয়া পড়িল, ঠোঁট দুইটা চিবুক পর্যন্ত বাঁকিয়া আবার উভয়েই নীরবে, রাস্তা ধরিয়া চলিয়াছে । একটা গাই রাস্তার ধারে পতিত জমিতে লম্বা দড়িতে বাঁধা, ঘাস খাইতেছিল । জানি না, পুলিন কোন্ কৌতুকে চট করিয়া বাঁ হাতের দুইটা আঙুলে গাইটার পিঠটা টিপিয়া টিপিয়া ঘড়-ড়-ঘোঁত শব্দে নাসিকা-গর্জন করিয়া উঠিল, সঙ্গে সঙ্গে গাইটাও মাথা নাড়িয়া লাফাইয়া উঠিল ।
পুলিন সলম্ফে হাত দুই সরিয়া আসিয়া কহিল, মাইরি, কী ত্যাজ রে! আমার বউটাও ঠিক এমনই, মাথা নেড়েই আছে । क আৰু নিই নাসা করিবার মতো ছিল না।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।