মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর লেখা ও আলোর ভুবন প্রকাশনীর বই "নির্বাচিত ছোটগল্প | Buy this book at 180 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
ভূমিকা লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৬৫)-এর জন্ম হয়। আসল নাম সুবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতার নাম হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত তার লেখনীতে বিশাল বিস্তীর্ণ নদ-নদীর পটভূমিকায় সাধারণ মানুষের কথা যেমন বস্তুনিষ্ঠা জীবনচিত্র অঙ্কন করেছেন, তেমনি মানুষের কর্মে পিপাসায় জীবনচিত্র তুলে ধরতে গিয়ে আদিমতার অন্ধকারে ফিরে গেছেন বার বার। অদ্ভুত নিরাসক্তভাবে তিনি মানুষের জীবন ও সমস্যাকে দেখেছেন, সমাধানের চেষ্টাও করেছেন বুদ্ধি ও লেখনীতে। নর-নারীর জৈবসত্ত্বা বিকাশের নানাদিক তাকে আকৃষ্ট করেছিল। তার লেখায় জৈবসত্ত্বা ও দৈহিক বর্ণনায় ছিলেন কিছুটা বেপরোয়া প্রকৃতির। দৈহিকভাবে অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে যথেষ্ঠ বলিষ্ঠ ছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বলিষ্ঠতা রক্তের উষ্ণ-স্রোত উত্তাপ টের পাওয়া যায় তার গল্প- উপন্যাসের চরিত্রের বর্ণনায়, পেশায়, কাজে-কর্মে। মানিকের সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশটা একটা চমক এবং চমক 'অতসী মামী' রচনার ইতিহাস, চমক 'দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫), 'জননী' (১৯৩৫), 'পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬), 'পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), 'অহিংসা' (১৯৪৮) ও 'চতুষ্কোণ' (১৯৪৩) প্রভৃতি। পাঠকের চেতনাকে নাড়া দিতে পেরেছেন বলেই এগুলো পাঠকের কাছে আদরণীয় 'অতসী মামী' গল্পের মাধ্যমে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যাঙ্গনে যাত্রা। পরবর্তীতে তিনি 'প্রাগৈতিহাসিক' 'সরীসৃপ' 'হারাধনের নাতজামাই' 'ছোট বকুলপুরের যাত্রী' 'ফেরিওয়ালা' 'বৌ' 'সমুদ্রের স্বাদ'-এর মতো জীবন-সমৃদ্ধ শিল্পসার্থক গল্প লিখলেন। তাঁর এই সফলতা ও সার্থকতার কারণ রয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতার পসরা ছিলো বিচিত্র ও বিস্তীর্ণ। মধ্যবিত্ত অভিযাত্রিক সচেতনতার মধ্যে জন্ম বর্জিত হলেও বিত্তের অস্বচ্ছলতার চাপ শিল্পীকে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করতেই হয়েছে প্রায় আগাগোড়া। এককথায় মানবিক বিশ্বাসের মূলে চিড় ধরেছিল। আসলে মানিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মানব সত্যের প্রাণ ও স্বপ্নপুরুষ ।