বুলবুল চৌধুরী এর লেখা ও অনুপম প্রকাশনী প্রকাশনীর বই "নেজাম ডাকাইতের পালা | Buy this book at 36 BDT from বইসদাই - boisodai.com | Bangladesh | বইপোকা
ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম লোকসাহিত্যের প্রতি বাঙালির দৃষ্টি কাড়েন। পরে সাধক হয়ে ‘মৈমনসিংহ ও পূর্ব বঙ্গ গীতিকা’ সংকলিত করেন শ্রীদীনেরশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুর বিএ, ডি-এল। জাতীয় সত্তার বিকাশ সাধনে লোকসাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা রেঁনেসা যুগেই সর্বজন স্বীকৃত আমাদের আছে পল্লীগাথার অজস্র অথকতা। এর ভাষা লোকজ। ছন্দ যেন শিশুর আধো আধো কথকতা। আবার ভাব জগতের বিবেচনায় এর মাদকতায় ডুবেছেন দেশ ছাড়িযেও য্যুারোপের বহু পণ্ডিত। তাদের বিচারে বঙ্গসাহিত্যে এগুলো উঁচুমানের গাথাভাণ্ডার। ঐতিহাসিকতায় এবং কল্পনার শোভায় অপূর্বও বটে পালাগানের ভাষায় এর রূপ বুঝি “পুন্নমাসী চাঁদ যেমন দেখায় নদীর তলা”। ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’য় সংগৃহীত তেমনি এক বিচিত্র আখ্যানভাগ ‘নেজাম ডাকাইতের পালা।’জানতে পারি, ওচল পাহাড়ের আড়ে ছিল এক ডাকু। মানুষের রক্তে তার নেশা। খুন করেছে মোট নব্বাই জনকে।অবশেষে কামেল ফকির শেখ ফরিদদের উদয়ে ভাবান্তর জাগে তার। পরে ডাকুকে বসতে হয় বারো বছরের ধ্যানে। সামনে শেখ ফরিদের রেখে দেওয়া লাঠি। কথিত আছে, সাধনা পূর্ণ হলে তারিই মাথা ফুঁড়ে এক অপরূপ লতা বেরুবে। অথচ ছয় বছরের মাথায় তার চোখ যায়। অধূরের কবরস্থানে। সেখানে উজিরপুত্র দুষ্ট জব্বর কবর খুড়ে লাল বাইয়ের লাশ তুলছিল। অমনি সে ছুটে মাথায় আঘাত হানতেই অপরাধী নিহত হয়। তাজ্জব! মুহূর্তেই লাঠির মাথা ফুঁড়ে বেরায় অপরূপ লতা! এভাবেই ‘নেজাম ডাকাইতের পালা’য় ফুটে ওঠে মানব বদলের কাহিনী। পরে এই ডাকুই রেনজাম পীর হিসেবে খ্যাত হন ইতিহাসের পাতায়।