আব্দুর রউফ চৌধুরী রচিত ‘নতুন দিগন্ত সমগ্র ১,২,৩ : ভুট্টো, পাকিস্তান-বাংলাদেশ, সর্বহারা দল নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আত্মজৈবনিক উন্যাস’ — ঐতিহাসিক উপন্যাস। প্রকাশনার দায়িত্বে পাঠক সমাবেশ। এর কলেবর ৪৬৪ পৃষ্ঠা।
নতুন দিগন্ত আব্দুর রউফ চৌধুরীরর সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক উপন্যাস। উপন্যাসটি তিন খন্ডে বিভক্ত। প্রধানত পাকিস্তানের, বৃহৎ অর্থে ভারত উপমহাদেশের, রাজনীতি ও রাজনীতিতে সক্রিয় প্রধান ব্যক্তিদের অবলম্বনে উপন্যাসটির আখ্যান পরিকল্পিত। সুদূর পাকিস্তান করাচিত থেকেই উপন্যাসের শুরু। সময় ১৯৬৮ থেকে ১৯৬৯ সাল। যে মানুষটি উপন্যাসের প্রথমেই আমাদের সামনে হাজির হয় সে হচ্ছে ভূট্টো। স্ত্রী-আমির, নাহিদা, বেনফরত। বন্ধু- সুরাইয়া, নার্গিস, রোকসানা। ছেলেমেয়ে বেনজির, নাসিমা, মোরতুজা, শাহ নেওয়াজ। ভুট্টো প্রেমিক কিন্তু আস্তে আস্তে তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভূট্টোর প্রতি পাঠককে বিরূপ করে তোলেন। এই উপন্যাসে আরো সন্ধান পাওয়া যায় একটি বৃহত্তর ‘অখন্ড বাংলাদেশ’ এর; প্রচলিত সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সৃষ্টি। এরই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা আইয়ুব, খুরো, ইন্দিরা, মুজিবের নানারকম স্বরূপ আবিষ্কৃত হয়। ইতিহাসের ধারাবাহিক বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে চাননি লেখক। তিনি বিভিন্ন ঘটনা পরম্পরার মধ্য দিয়ে একই বিষয়ের ঐতিহাসিক পরিণতি তুলে ধরেন। এখানে লেখক উল্লেখ করেছেন সর্বহারা দলের কথা, যার আর এক নাম ‘ওয়ার্কার্স ফ্রেন্ডস ক্লাব’। এ দলের দর্শন এবং মন্ত্র বা গুণ যদি ঠিকমতো কাজে লাগানো যায় তাহলে দেশের ও মানুষের জন্য কি ঘটতে পারে তাই বলার চেষ্টা করেছেন লেখক।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। বইপোকা থেকে অর্ডার করুন।