‘নবিজির উম্মাহ ও রাষ্ট্র গঠন’ শায়খ সালেহ আহমদ আশ-শামী-এর লেখা বই। প্রকাশক কালান্তর প্রকাশনী। বইটিতে আছে ৪২৪ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2025।
আসার আগে মানবসভ্যতা এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সর্বত্রই ছিল বিভ্রান্তি, অন্যায় ও পৈশাচিকতা। এ সময় আল্লাহ তাআলা এক মহামানব পাঠালেন, যিনি কেবল একজন নবি নন; বরং আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, পরিশুদ্ধ মানুষ গড়ার কারিগর এবং শাশ্বত ঐশী সভ্যতার নির্মাতা।
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে রাসুল সা. মূর্খ আরবসমাজের অন্তর, মনন ও জীবনযাপনের প্রতিটি পরতে শক্তিশালী মৌলিক বিপ্লব এনে দেন। কীভাবে তিনি মক্কায় দীর্ঘ দাওয়াতি কার্যক্রম, মদিনায় ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রণয়ন, সমর অভিযান, আত্মশুদ্ধি ও শিক্ষার মধ্য দিয়ে একটি তাকওয়াভিত্তিক সমাজ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। আসমানি নির্দেশনার আলোকে তুলে ধরেন বিস্তর ও বাস্তবিক পথরেখা, যার সূত্র ধরে একেকজন মূর্খ ও দাম্ভিক ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন ন্যায়ের ধারক; একেকটা গোত্র হয়ে উঠেছিল পুরোদস্তুর উম্মাহ।
নবিজির উম্মাহ ও রাষ্ট্র গঠন নামক এ গ্রন্থটি সিরাতচর্চার গতানুগতিক ধারা থেকে ভিন্ন। এটি নিছক ঘটনাপুঞ্জের বর্ণনা নয়; বরং নবিজি কীভাবে একটি অধঃপতিত জাতিকে এক আদর্শ রাষ্ট্র ও অনুপম উম্মাহ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, তার প্রকৃত অনুসন্ধান। লেখক এখানে দেখতে চেয়েছেন কীভাবে মক্কার গোপন দাওয়াতি কার্যক্রম, মদিনার ভ্রাতৃত্ব, বদর-উহুদের ত্যাগ-তিতিক্ষা, হুদায়বিয়ার কূটনীতি, মদিনা সনদ ও বিদায়হজের ভাষণের মধ্য দিয়ে ইসলাম বিশ্বের চূড়ান্ত রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
ইসলামি জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী পাঠকদের কাছে বইটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।