ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথা কুড়িজন নারীপুরুষ আর শিশুকে ধরে আনা হয়েছে সীমান্তে। তাদেরকে ঠেলে দেওয়া হবে ওই পারে। কিন্তু ওপারের সীমান্তরক্ষীরাও প্রস্তুত।কাউকে তাদের পারে তারা ঢুকতে দেবে না। সীমান্তের এপারের রক্ষীরা ঠেলে দিল তাদের নো-ম্যান’স ল্যান্ড বা না-মানুষি জমিনে। ওপারের রক্ষীরাও তাদেরকে রুখে দাঁড়াল সঙ্গিন উঁচিয়ে। খুব শীত ছিল তখন ওই এলাকায়। দু রাত প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রইল একদল মানবসন্তান।তাদের মধ্যে একজন নারী গর্ভবতী। কুয়াশার চাদরের নিচে এক কন্যাসন্তান প্রসব করে তিনি মারা গেলেন। তার সঙ্গীরা ততক্ষণে উধাও ঘন কুয়াশার আড়ারে।নো-ম্যান’স ল্যান্ডে পড়ে আছে মানবশিশু। কী তার দেশ? কী তার পরিচয়? এখন কী হবে ওই শিশুটির? এপার ওপার কেউ তার দায়িত্ব নেবে না।কিন্তু রাষ্ট্র কিংবা রাজনীতিই শেষ কথা নয়। সব কিছুর উর্ধ্বে মানুষের মানুবিকতা। কিংবা মানুষ যেখানে মানবিকতা হারিয়ে ফেলে, সেখানে হয়তো এগিয়ে আসতে হবে কোনো পশুকেই।আনিসুল হক লিখলেন এক নিদারুণ জাদুবাস্তবতার গল্প, যেখানে রঙ্গিন কাপড় পরিস্থিতি এক বাঁদর কাঁটাতারের বেড়ার গায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঝুলে থাকে, যাঁর শোকে কাঁদে মানুষ।