‘মুসাফির’ সৈয়দ মুজতবা আলী-এর লেখা ভ্রমণ ও প্রবাস বিষয়ক বই। প্রকাশক বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 3rd Editor, 2017 নিয়ে।
“মুসাফির” বইটির ভূমিকাঃ এ পুস্তকের একটি ক্ষুদ্র মুখবন্ধের প্রয়ােজন আছে। একাধিক খ্যাতনামা ভূপর্যটক পরিণত বয়সে নাকে দিয়ে অসঙ্কোচে স্বীকার করেছেন,উঠান-সমুদ্র পেরিয়ে বাড়ির বাইরে বেরুনােটাই মূখামির চূড়ান্ত নিদর্শন। খ্যাতনামা লেখক না হয়েও আমি এ-সব প্রাতঃস্মরণীয়দের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলছেন কি,ভ্রমণকাহিনী লিখে সে মূর্খামির চূড়ান্ত পরিচয়টি তারা দিতে গেলেন কেন? ১৯২৭ থেকে আপনাদের বশংবদ এ-লেখক ঘরছাড়া। মাঝে-মধ্যে দু’চার বছরের জন্য হেথা হােথা সে আশ্রয় পেয়েছিল বটে কিন্তু গৃহনির্মাণ করার সুযােগ সে কখনাে পায়নি। ফের পথে নামতে হয়েছে। সে নিয়ে ফরিয়াদ করিনে। একদা নাবিকজনের অধিকাংশই সমুদ্রে মারা যেত। তাদের যেসব ভীতু ছেলে-ভাইপাে সমুদ্রযাত্রা করত। ,তারা মরত বাড়িতে। ফল তাে একই। আমার বেলা আরাে একটা ভয় আছে। উঠান-সমুদ্র পেরিয়ে অপকর্ম করেছি সে পাপ তাে এইমাত্র স্বীকার করলুম,কিন্তু বাড়ি থেকে না বেরুলে যে আরাে মেলা জব্বর জব্বর ব্রহ্মহত্যা করতুম না সে ভরসা দেবেন কোন গােসাঁই? অর্বাচীন জনই মন্তব্য করে,হিটলার যদি অমুক ভুলটা না করতেন তবে তিনি আখেরে বিজয়ী হতেন— ওই ভুলটা না করলে তিনি যে পরে গণ্ডা দশেক ততােধিক মহামারাত্মক ভুল করতেন না সে আশ্বাস দেবেন কোন বিধানরাজ! তবে এ সত্য আমি বারবার বলব,আমি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়েছি অতিশয় অনিচ্ছায়— গত্যন্তর ছিল না বলে ।
ভ্রমণ ও প্রবাস-এ আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকার সংগ্রহে বইটি রয়েছে।