আমি আমার অন্তর্দৃষ্টি যখন প্রসারিত করি তখন আমার বোধিতে অনুভব করি, ভারি সুন্দর আমার এই দেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ। এমনি সবুজে ঘেরা, মায়াবী দেশে জন্ম আমার। আকাশের নীল ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হয়। যে দেশে আমি জন্মেছি সেখানেই আমার শিকড়। চারাগাছ থেকে একসময় মহীরুহ হয়ে উঠেছি। ডালপালার বিস্তৃতি হয়েছে। ঐশ্বর্যের পেছনে ছুটে চলা মানুষকে একটা সময় থমকে যেতেই হয়। মনে পড়ে যায় তলস্তয়ের সেই গল্পটি ‘কতটুকু জমি একটি মানুষের দরকার? একাত্তরের নয়টা মাস বাঙালি জাতির জন্য গৌরবময় ইতিহাস হয়ে থাকবে যুগ যুগ। এই রাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফিরে দেখি নিজেকে, যেখানে জন্মেছি। এই সুন্দর দেশের কাছে আমারও তো কিছু ঋণ আছে। ইচ্ছে ছিল একটি ট্রিলজি লেখার। এর প্রথম অংশটির নাম 'বিপন্ন অস্তিত্ব' উপন্যাসটির কাহিনি ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পূর্ববর্তী সময়। দ্বিতীয় অংশটির নাম 'মধ্যগগন'। উপন্যাসটির কাহিনি দেশ ভাগের পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত। তৃতীয় অংশটির নাম 'স্বাধীন ভোর' এই উপন্যাসটি হচ্ছে আমার ট্রিলজির শেষ অংশ। এই উপন্যাসে আমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকা রচনা করেছি। কিছু কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছি উপযুক্ত দলিল । পাঠকের সুবিধার্থে এই তিনটি গ্রন্থ একত্র করে 'মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র'। শিরোনামে প্রকাশ করলাম।