মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই হিসেবে ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর স্বাধীনতা যুদ্ধকাল’ লিখেছেন লুতফা হাসীন রোজী। প্রকাশনার দায়িত্বে জ্ঞানকোষ প্রকাশনী। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ২৭২ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: ১ম প্রকাশ, ২০২৫ নিয়ে।
স্বাধীনতা-উত্তর পূর্ব পাকিজনে এক বাবা তার বড় মেয়ের সথে বসে গল্প করেন। বাবা বলেন আপন ভাষার মহিমা, জাতি হিসেবে দাঁড়াবার জন্য ভাষিক স্বাধীনতার ভূমিকা, ভাষা আন্দোলনে নিজের অংশগ্রহণের সেই দিনগুলো। আর বাবার সেই গল্পকথা মুহূর্তের মধ্যে কিশোরী মেয়ের মনে ঢেউ তুলে দেয়। প্রীতিলতার জীবনী সামনে রেখে যে কিশোরী বড় হয়ে উঠেছে, তার মন রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে অনাবিল আশায়। সে বুঝতে পারে পাকিস্তানে ওরা স্বাধীন নয়। পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন করার আশা বুকে ধুকপুক করে ওঠে। বারবার সে ভাবতে থাকে তার জন্ম বৃথা যাবে না। দেশের জন্য সেও প্রীতিলতার মতো জীবন উৎসর্গ করতে পারবে। এই কিশোরী কোনো গল্প-উপন্যাসের অংশ নয়, এক নারী মুক্তিযোদ্ধার জীবনের প্রকৃত বাস্তব ঘটনা। আর এই কিশোরী আর কেউ নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত ও অসীম সাহসী নেত্রী লুতফা হাসীন রোজী।
তিনি যেভাবে অত্যন্ত সরল প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করেন অপারেশন সার্চলাইটের বাস্তব অভিজ্ঞতা, তেমনি তার মা-বাবাকে চিঠি লিখে রেখে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার, একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর সব গেরিলা কাহিনি। তার মধ্যেও রয়েছে গ্রামবাংলার মানুষের সরলতা, মানবিকতার উল্লেখ, কৌতুক, সহযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রতিশ্রুতি -বদ্ধতা, মৃত্যুকে নিদারুণ কাছ থেকে দেখার রূঢ় বাস্তবতা।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত ইতিহাস, সমাজ ও রাজনীতিতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। অনলাইনে বইপোকা থেকে পেয়ে যাবেন।