"মুখোশের চোখে জল" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: প্রসাদের দাদা চেয়েছিলেন অভিনেতা হতে। প্রসাদ হতে চেয়েছিল কবি কিংবা নাট্যকার । প্রসাদের বৌদি চেয়েছিলেন সচ্ছল এক সংসার। প্রসাদের দাদার মেয়ে পিউ, সেও চেয়েছিল তার হাতের আলপনার মতই শ্রীমণ্ডিত হয়ে ফুটে উঠতে জীবনে। কিন্তু মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে থেকে যায় মস্ত বড় এক ফাঁক, এক বিশাল ফাঁকি। সেই ফাঁক ও ফাঁকির মূলে এই সমাজের অদ্ভুত এক সিসটেম। সেই শূন্যতা জুড়ে ভাগ্যবিধাতার নিষ্ঠুর এক পরিহাস। একদিকে সেই সিসটেম সৎ, সজ্জন, শিল্পী হবার স্বপ্ন-দেখা মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে, লুপ্ত করে দিতে চাইছে প্রভু ও মজদুরের মধ্যবর্তী শ্রেণীকে, অন্যদিকে ভাগ্য-বিধাতা কাউকে ছিনিয়ে নিচ্ছেন অকালে, কাউকে-বা করে তুলছেন পঙ্গু, অসহায়। বাস্তব জীবনের যে-রঙ্গমঞ্চে অভিনেতা এক অসচ্ছল চাকুরে, কবি-নাট্যকার এক সামান্য জাব্যাপারী, সেই রঙ্গমঞ্চেরই এক হাসিকান্নায় উজ্জ্বল কাহিনী মুখােশের চোখে জল।