বাঙালি জাতি ঐতিহ্যের জীবনচর্চায় ঐতিহাসিকতা নিয়ে যত না কথা হয়েছে তার চেয়ে অধিক চর্চিত হয়েছে শাসকদের কথা। কালক্রমে বিস্তৃত হয়েছে এর পরিধি। তবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ফলে তা সম্ভব হয়েছে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ববহ আমাদের ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বিকল্প নেতৃত্ব ও মৌলিক অবদান। জাতির পিতা বাঙালি-জাতিরাষ্ট্র গঠনে নিজস্ব ভৌগোলিক পরিবেশ, প্রাচীন বাংলার জনপদ, জনমানুষ ও গ্রামীণ সমাজ-সংস্কৃতি-অর্থনীতিকে গভীরভাবে উপলব্ধিতে এনেছেন-যা ছিল তাঁর স্বজ্ঞাপ্রসূত একইসঙ্গে প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার সমন্বিত রূপ। যুদ্ধবিধ্বস্ত ধূসর বাংলাদেশকে কীভাবে সোনার বাংলায় পরিণত করা যায় তার জন্য চিন্তা ও পরিকল্পনায় গ্রহণ করেছিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি ভাবনার ভেতর যে দর্শন তা মৌলিক, এজন্য তাঁর দর্শননির্ভর ভাবনা, চিন্তা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মৌলিক হিসেবেই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ‘মুজিব মৌলিক’ এবং গ্রন্থের অন্যান্য লেখাগুলো মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষিত। জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিকাশের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভূমিকা ও অবদানের ক্ষেত্রে তাঁরও উৎসমুখ মৌলিক চিন্তক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।