বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘মরণের ডঙ্কা বাজে’ — চিরায়ত উপন্যাস। বইটি প্রকাশ করেছে দূরবীণ। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ৯৬ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2025 নিয়ে।
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় বাঙালি কিশোরদের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মরণের ডঙ্কা বাজে উপন্যাসটি লিখতে শুরু করেন তখন বিশ্বজুড়ে চলছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব। ইতালিতে মুসোলিনি, জার্মানিতে হিটলারের অভ্যুদয় ঘটেছে। আবিসিনিয়ায় চলছে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ আর স্পেনে সিভিল ওয়ার। যুদ্ধের আঁচ তখনও লাগেনি বাংলায়, যদিও বুদ্ধিজীবী সমাজের চিত্তে প্রবল বেগে নাড়া দিয়েছে এ অস্থিরতা।
চীন-জাপানের ভয়ংকর যুদ্ধে দুজন বাঙালি যুবক বিমল ও সুরেশ্বরের ভাগ্যচক্রে জড়িত হয়ে পড়াই ছিল এই উপন্যাসের উপজীব্য। তাদের পরিচয় হয় রেঙ্গুনের পথে এক স্টিমারে। দুজনেরই গন্তব্য সিঙ্গাপুর। লক্ষ্য নতুন পেশাজীবন আরম্ভ করা। কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকেই তারা জড়িয়ে পড়ল চীন-জাপান যুদ্ধে। কনসেশন আর্মির হয়ে কাজ করতে লুকিয়ে হাজির হলো সাংহাই।
তারপরে জাপানি বোমারু বিমান আর যুদ্ধের দামামা। সম্ভবত বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণই সর্বপ্রথম সমকালীন যুদ্ধের কাহিনি নিয়ে উপন্যাস রচনা করেছিলেন। তাই উপন্যাসটি বিভূতি-সাহিত্যে এবং একইসঙ্গে বাংলা সাহিত্যেও অভিনব।
সুধীরচন্দ্র সরকার সম্পাদিত ছোটোদের বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা ‘মৌচাক’ এ ধারাবাহিক রচনা হিসেবে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় মরণের ডঙ্কা বাজে। পুস্তকাকারে প্রথম আবির্ভাব পনেরোই জানুয়ারি ১৯৪০।
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।