"মজুরী শ্রম ও পুঁজি" বইটি সম্পর্কে ভেতরের কিছু অংশ: অর্থশাস্ত্র এই ঘটনাটি দেখে যে, সবরকম পণ্যেরই দাম—তার মধ্যে যে পণ্যটিকে তারা বলে শ্রম' তার দামও—অবিরাম বদলায়; দাম ওঠানামা করে অতি বিচিত্র সব অবস্থার ফলে যার সঙ্গে সে পণ্যের উৎপাদনের কোনাে সম্বন্ধই নেই, ফলে মনে হয় যেন দাম সাধারণত নির্ধারিত হয় নিতান্ত আপতিক ঘটনাবশেই। তাই যখন অর্থশাস্ত্র বিজ্ঞানরূপে দেখা দিল** তখন তার অন্যতম প্রথম কর্তব্য হলাে, যে আপতিকতা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রিত করে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, তার পিছনে লুকিয়ে আছে যে-নিয়ম, যে-নিয়ম প্রকৃতপক্ষে নিজেই সেই আপতিকতাকে নিয়ন্ত্রিত করে, সেই নিয়মটিকেই আবিষ্কার করা। কখনাে উপরের দিকে, কখনাে নীচের দিকে অবিরামভাবে ওঠানামা করা বা দোদুল্যমান পণ্য-দামের মধ্যে এমন একটি স্থির কেন্দ্রবিন্দু খুঁজে বার করতে চায় অর্থশাস্ত্র যাকে ঘিরে দামের এই ওঠানামা ও দোল খাওয়া, অর্থাৎ পণ্যের দাম থেকে সে খুঁজতে শুরু করল তার দাম নিয়ামক বিধিস্বরূপ পণ্যের মূল্যকে, যে মূল্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে দামের সর্বপ্রকার ওঠানামা ও শেষ পর্যন্ত সমস্ত দামেরই যা কারণ।