‘মফিজন’ — মাহবুব-উল-আলম-এর কলমে সমকালীন উপন্যাস। প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স। বইটিতে আছে ৩৯ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 2nd Published, 2017।
"মফিজন" বইটির ভুমিকা থেকে নেয়াঃ
মফিজন মাহবুব-উল আলমের এক সাহসী সৃষ্টি। বিশেষ করে জীবনের নগ্ন বলিষ্ঠতা এই বইটিতে যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে সেকালের পক্ষে তা ছিল এক অভাবনীয় ব্যাপার। বস্তুত চরিত্র মাহবুব-উল আলমের কাছে আইডিয়া মাত্র নয়, যেমন মানুষ নয় নিছক সমাজসত্তার অংশ। কামনা-বাসনা নিয়ে তারা প্রত্যেকেই আলাদা রক্ত-মাংসের মানব ও মানবী। হয়তাে ডি এইচ লরেন্সের মতাে তিনিও মনে করেন, মানুষের ভাবনায় ভুল থাকতে পারে, কিন্তু তার রক্ত যা অনুভব উপলব্ধি ও প্রকাশ করে তাতে ভুল নেই। চরিত্রসৃষ্টি হিসেবেও মফিজন বাংলা সাহিত্যে অতুলনীয়। হতে পারে কিছুটা অস্বাভাবিক, কিন্তু জীবন্ত, অপূর্ব। এক কথায় মফিজন হল সেই ধরনের মেয়ে মৃত্যুর চর্বনের মধ্যে পড়েও গুনে গুনে’ যে। ‘তার দাঁত দেখতে চায়। মফিজন-এর বর্ণনা ও ভাষাভঙ্গিও মনে হয় যেন কেবল এর রচয়িতার পক্ষেই সম্ভব।
মফিজন-এর বিরুদ্ধে একদা আপত্তি উঠেছিল যে বইটি অশ্লীল। অগত্যা পত্রিকা বিদ্রুপ করে লিখেছিল : “গল্পে জিনিস আছে। আটাশ পৃষ্ঠার গল্প যে এত বীভৎস, এত horrible হতে পারে মফিজন পড়ার আগে সে জ্ঞান ... ছিল না।” আপত্তির কারণ বইটিতে নারীদেহ এবং জৈবিক আকাঙ্ক্ষা বা মিলনের বর্ণনা খানিকটা খােলামেলা ভাবে এসেছে। তবে এখানে আপত্তিটা বলা বাহুল্য দৃষ্টিভঙ্গিজাত। আমাদের মধ্যযুগের কবি কিংবা ইউরােপের রেনেসাঁস যুগের শিল্পীদের মতােই মফিজন-এর স্রষ্টাও মানবদেহকে পবিত্র ও সুন্দর জ্ঞানে বন্দনা করেছেন।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।