বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কিছু ভয়ানক চক্র জন্ম নিয়েছে, যাদের একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মনকে প্রলোভনের জালে ফেলা। চেহারার সৌন্দর্য, মিষ্টি কথার মায়া, দুষ্টু আড়ম্বর,ফেইক অভিনয়,—সবই তাদের হাতিয়ার। তারা কাউকে ভালোবাসার জালে বশ করে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে, তীব্র ধ্বংসের ফাঁদে ঠেলে দেয় এবং কোটি টাকার সম্পদ হাতিয়ে নেয়। কখনও কখনও এমন খবর আসে, তারা তাদের শিকারকে বিদেশেও নিয়ে যায়, যেখানে দুনিয়ার সবচেয়ে অমানবিক কৌশল প্রয়োগ করা হয়। গোল্ড ডিগার, ফরচুন হান্টার, হানি ট্র্যাপ প্লেয়ার, টক্সিক—প্রতিটি নামের সঙ্গে জড়িত ভয়ানক পরিকল্পনা। ভালোবাসার নামে তারা জীবন নিয়ে খেলা করতে দ্বিধা করে না।তারা ধীরে ধীরে প্রবেশ করে একেকটা সরল হৃদয়ের ভেতর, বিশ্বাসের নরম জায়গাটায় আলতো করে হাত রাখে, তারপর… শুরু হয় অদৃশ্য ফাঁদের বুনন। ভালোবাসার নামে গড়ে ওঠা সেই সম্পর্কগুলো— আসলে একেকটি সাজানো মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি সংলাপ, প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি স্বপ্ন আগেই লিখে রাখা থাকে অন্ধকার কোনো চক্রের স্ক্রিপ্টে। কেউ নিজেকে “গোল্ড ডিগার” রূপে লুকায়, কেউ “ফরচুন হান্টার” হয়ে খোঁজে ধন-সম্পদের শর্টকাট পথ, কেউ “হানি ট্র্যাপ”-এর নিখুঁত জালে আটকে ফেলে শিকারকে, আবার কেউ “প্লেয়ার” বা “টক্সিক” মুখোশ পরে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে নির্মম খেলায়। তাদের লক্ষ্য একটাই— ভালোবাসার ছদ্মবেশে ধীরে ধীরে গ্রাস করে একটি মানুষের সম্মান, স্বপ্ন, আর বহু কষ্টে গড়ে তোলা জীবনের বিনিময়ে সামান্য ভোগ। অনেকেই বুঝতে পারে না— যে চোখে সে নিজের ভবিষ্যৎ খুঁজেছিল, সেই চোখই একদিন তার সর্বনাশের কারণ হয়ে উঠবে। যে হাত একসময় ভরসা দিয়েছিল, সেই হাতই নিঃশব্দে তাকে ঠেলে দেবে অন্ধকারের গভীরে। কখনো হারিয়ে যায় অর্থ, কখনো সম্মান, আবার কখনো… হারিয়ে যায় নিজের ভেতরের মানুষটুকুও। এই অদৃশ্য জাল আজ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে— নীরবে, নিঃশব্দে, কিন্তু ভয়ংকরভাবে। হয়তো আজ নয়, কাল— আমি, আপনি, কিংবা আমাদের প্রিয় কেউ এই ফাঁদের শিকার হতে পারি, যদি আমরা সতর্ক না হই। এরকম এক ভয়ংকর চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়ে এক জীবন—অজান্তেই, অদৃশ্য এক টানে। সেই জীবনের গল্পই এখানে তুলে ধরেছি উপন্যাসের ভাষায়। ভালোবাসার নামে জন্ম নেওয়া এক ভয়ংকর আসক্তির গল্প— যা ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে অপরাধ, ষড়যন্ত্র আর বন্দিত্বে।