লেখক এনামুল হক ইবনে ইউসুফ-এর ‘মায়ার ব্যাকরণ’ পাঠকের সামনে এসেছে সমকালীন উপন্যাস হিসেবে। নোঙর প্রকাশন-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। বইটিতে আছে ১২৮ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st published, 2026।
সম্পর্কের কি কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকরণ থাকে? নাকি মানুষ তার আজন্ম তৃষ্ণা আর নিঃসঙ্গতা দিয়ে প্রতিদিন নতুন করে সম্পর্কের ভাষা নির্মাণ করে?
জীবন মূলত এক বোঝাপড়ার নাম। মানুষ প্রতিনিয়ত ভালোবাসার সংজ্ঞা খোঁজে—কখনো নিঃশব্দ সমর্পণে, কখনো সংসারের নিয়মের বেড়াজালে, আবার কখনো প্রাচুর্যের শিখরে পৌঁছেও আবিষ্কার করে তার চারপাশের শানদার অট্টালিকাগুলো আসলে এক-একটি নিঃসঙ্গ খাঁচা।
‘মায়ার ব্যাকরণ’ কেবল তিনটি স্বতন্ত্র গল্পের সংকলন নয়; এটি মানবমনের গভীরতম তিনটি মনস্তাত্ত্বিক অধ্যায়ের রূপরেখা।
প্রথম গল্প ‘বুকের ভেতর একটুখানি আকাশ’—অচেনা এক ছাদের নিচে দূরত্ব আর জড়তার দেয়াল ভেঙে নিঃশব্দ নির্ভরতায় দুটি হৃদয়ের একাকার হয়ে ওঠার স্নিগ্ধ দলিল। দ্বিতীয় গল্প ‘মৌনতার মহাকাব্য’—পঁচিশ বছরের এক নিখুঁত দাম্পত্য, যেখানে দৃশ্যমান কোনো অভিযোগ নেই, অথচ বুকের ভেতরের শীতল দূরত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য আত্মত্যাগ। আর শেষ গল্প ‘হিরণ্ময় হাহাকার’—জীবনের শেষ স্টেশনে এসে দাঁড়ানো এক মানুষের পরম উপলব্ধি; যা মনে করিয়ে দেয়, দিনশেষে মানুষ একটা ভরসার কাঁধ চায়, কোনো কংক্রিটের প্রাসাদ নয়।
সহজ-সরল টানাপোড়েন, অব্যক্ত দীর্ঘশ্বাস আর অনুভূতির সূক্ষ্ম পরতগুলোকে এক সুতোয় গেঁথেই এই বই। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টাতে গিয়ে পাঠক যদি কোনো চরিত্রের দীর্ঘশ্বাসে নিজের অবদমিত অনুভূতিটুকু খুঁজে পান, তবেই এই লেখার সার্থকতা।
— এনামুল হক ইবনে ইউসুফ
যাঁরা এই বিষয়ে পড়তে চান, বিশেষত সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি উপযোগী। ঘরে বসেই বইপোকায় অর্ডার করুন।