সমকালীন উপন্যাস হিসেবে ‘মা’ লিখেছেন বিলেকাসা। অনুপ্রাণন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত। পাঠকের হাতে পৌঁছাবে ১৭৬ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Edition, 2024 নিয়ে।
এখানে স্বাভাবিক কিছু নেই, আছে পাওয়া-না পাওয়ার হাহাকার, টানাপোড়েন। জায়গাটার নাম দৌলতদিয়া। এখানকার একটি মেয়ে তারা। অন্য সবার মতোই টিকে থাকতে গিয়ে ওর জীবনেও আছে কিছু দুর্বিনীত সংগ্রাম। এর মাঝে ছেলের জন্ম দেয় মেয়েটি, শুরু হয় নতুন টানাপোড়েন। এত সংগ্রাম-লড়াইয়ের মাঝেও ছেলের মানুষ হওয়ার স্বপ্নে মেয়েটি মরিয়া হয়ে ওঠে। জীবনে যা অবশিষ্ট ছিল সেটুকুও বিসর্জন দিতে একবিন্দু পিছপা হয় না। ছেলেকে পড়াতে গিয়ে কারও পায়ে পড়তেই দ্বিধা করেনি।
মায়ের বুকের লালিত স্বপ্ন এবং সমাজের দশজনের সহায়তায় ছেলেটি বিদেশে গিয়ে লেখাপড়ার শেষ ধাপ পিএইচডি-ও খুব সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করে। দেশে ফিরে এসে ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। মায়ের দোয়া ও নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ছেলেটি হয়ে ওঠে সমাজের মূর্তিমান গর্ব। তবে ছেলেটির ভেতরে ছিল আত্মসম্মানবোধের ভীষণ ঘাটতি।
অধিকারের সঙ্গে প্রাপ্তিকে গুলিয়ে ফেলতে ওর সময় লাগে না। একে ওকে ডিঙিয়ে সবকিছু কেড়ে নিতে ছেলেটি ভিড়ে যায় আত্মসম্মানহীন এক শিক্ষক চক্রের সঙ্গে। প্রাপ্তির আনন্দে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকা ছেলেটির পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না শিক্ষার সুউচ্চ সম্মান। গল্পের শেষে বলা যাচ্ছে না দৌলতদিয়ার মেয়েটি নিজের জীবনে সফল নাকি ব্যর্থ। স্বাভাবিক জীবনে গিয়ে ওর ছেলেটি মানুষের মতো মানুষ হবে এই ছিল একমাত্র চাওয়া।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। বইপোকায় এখনই সংগ্রহ করুন।