লেখক জসীম উদদীন-এর ‘মা যে জননী কান্দে’ পাঠকের সামনে এসেছে চিরায়ত কাব্য বিষয়ক বই হিসেবে। পলাশ প্রকাশনী-এর প্রকাশনায় বইটি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৯৫ পৃষ্ঠা, সংস্করণ: 4th Published, 2021।
'মা যে জননী কান্দে' বইখানায় এবং ইতিপূর্বে প্রকাশিত আমার ‘সখিনা' কাব্যে মাঝে মাঝে আমি গ্রাম্য গীত-কবিতার ছন্দ ব্যবহার করিয়াছি। এই ছন্দকে কেহ যেন প্রচলিত বাংলা পয়ার ছন্দ মনে করিবেন না। বাংলা পয়ার ছন্দে তেমন ধূনিবৈচিত্র্য নাই; কিন্তু গীতি-কবিতার ছন্দ যদিও পয়ারেরই দোসর, লােক-সাহিত্যের কবিরা ইচ্ছামতাে শব্দ যােগ করিয়া ইহাতে নানা রকমের ধূনির সৃষ্টি করিয়াছেন । পাঠক লক্ষ্য করিবেন, ইহাতে মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ও ত্রিপদী ছন্দ ইচ্ছামতাে ব্যবহৃত হইয়া নানা ধূনি-বৈচিত্র্য আনয়ন করা হইয়াছে। এই কবিতা সুর করিয়া গাওয়া হয় বলিয়া ইহার ছন্দ-রূপ লইয়া কেহ মাথা ঘামান নাই। কিন্তু গ্রামদেশে এই কবিতাগুলি পড়িবার বা আবৃত্তি করিবারও একটি সুর ও রীতি আছে। পাঠক দুই একবার চেষ্টা করিলেই তাহা আয়ত্ত করিতে পারিবেন । ইংরেজ আগমনের পূর্বে আমাদের দেশে প্রায় সকল রকম কাহিনীই কবিতাকারে রচিত হইত। তারপর গদ্যে কাহিনী লেখার রীতি প্রবর্তিত হইয়াছে। বর্তমান যুগের এক্স-রে দৃষ্টির মতাে গদ্যের লেখন মানবমনের যে সব অন্ধিসন্ধি খুঁজিয়া বাহির করেন কবিতা লেখকের সেই সূক্ষদৃষ্টি নাই। কিন্তু কবিতাকারে মানবমনের যে পেলবতা (delicacy) ও গভীর অনুভূতি প্রকাশ সম্ভব গদ্যে তা সম্ভব নয়। চোখের ডাক্তার নানা রঙের আলাে মেলিয়া ধরিয়া চোখের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ রন্ধ্রের সন্ধান পান, কবিতা লেখকের হাতে একটি মাত্র আলাে – তাঁহার কবিদৃষ্টি।
সাহিত্যপ্রেমী পাঠকদের জন্য এটি একটি সহায়ক সংযোজন। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।