অপু, বিদিশা, ভিনা, বিভা, পাপড়ি ভিন্ন অবস্থানের এরকম অনেকগুলাে চরিত্রকে একটি লাটাইয়ে ভিন্ন সুতােয় একই—আকাশে উড়িয়েছেন বহুমাত্রিক ফেরদৌস হাসান, তার মায়া উপন্যাসে।নামহীন-গােত্রহীন অপু থেকে ভূস্বামী অপু হয়ে ওঠার যে অনেকগুলাে বাঁকতা পাঠককে বারবার স্বপ্ন দেখাবে, স্বপ্নভঙ্গও করবে। ভালাে-মন্দের পার্থক্য নির্ধারণে সতর্ক করে তুলবে। বিচারকের ভূমিকায় সবসময়ই থাকবে পাঠক। নগর-অনগরের মানুষ আর প্রকৃতিকে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ, সেটাকে সুনিপুণভাবে বইয়ের পাতায় স্থানান্তর করা ফেরদৌস হাসানের প্রমাণিত মুন্সিয়ানা। ইট-কাঠ-পাথরের ঢাকা শহরের সীমানা পেরিয়ে গারাে পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা আর দু’শ বছর আগের শেরপুর অঞ্চলে সাম্যবাদী সমাজ গড়ার কারিগর করম শাহ আর টিপু পাগলার আজকের মূর্ত রূপ অলােক পাতাং আর কাজল যেন ঘুরেফিরে একই দর্শনের পুনঃপ্রকাশ। আদিবাসী বিরু-নিতাই-দয়মন্তীতুলসির সঙ্গে রডােডেনড্রন আর পারিজাত ফুল—এ সবই যেন একই প্রকৃতির অনুসঙ্গ।