‘লোকচিকিৎসায় তন্ত্র-মন্ত্র’ বইটির লেখক ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল; এটি একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক বিবিধ বই। প্রকাশক বিশ্বসাহিত্য ভবন। বইটিতে আছে ২৫৬ পৃষ্ঠা, হার্ডকভার বাঁধাই, সংস্করণ: 1st Published, 2001।
"লোকচিকিৎসায় তন্ত্র-মন্ত্র" বইটির প্রসঙ্গ কথা অংশ থেকে নেয়াঃ
মন্ত্র বাংলা লােকসাহিত্য-ভাণ্ডারের অমূল্য রত্ন বিশেষ। বাঙালী সংস্কৃতির স্বরূপ সন্ধানে মন্ত্রের ভূমিকা অপরিসীম। লােকসংস্কৃতির এই অমূল্য সম্পদের প্রতি ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক এবং লােকসাহিত্য গবেষকদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়নি এখনও। জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞেয় মনােভাবই এর মূল কারণ। বাংলার লােকসমাজে যাদু বিশ্বাস আজও প্রবল। মন্ত্রের সঙ্গে যাদুর সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ। যাদুশক্তি অর্জিত হয় মন্ত্রগুণে। প্রকৃতি ও দৈবনির্ভর জড়ােপাসক আদিবাসী সমাজে একদা যে বিশ্বাসের উদ্ভব কালক্রমে তা ব্যাপ্ত হয় বাংলার হিন্দু-মুসলমানবৌদ্ধ-খ্রীষ্টান সকল লােকসমাজে। ধর্ম-বর্ণ-গােত্র শ্রেণী নির্বিশেষে আজও মন্ত্রের চর্চা অনুশীলিত হয় নানাভাবে। মন্ত্র সাহিত্য পদবাচ্য হলেও সাহিত্য গুণ এতে ততটা নেই। মন্ত্রকে সাধারণত আত্মরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে সারাদেশে মন্ত্রগুণী সমাজ নামে একটি পেশাজীবী শ্রেণী গড়ে ওঠে। লােকসমাজের নানাবিধ রােগে-শােকে আপদে-বিপদে তারা পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মন্ত্র-তন্ত্র, ঝাড়ফুক, তাবিজ-কবজ চিকিৎসার মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার যুগে লােকচিকিৎসা লােকজীবনে কতটুকু কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম তার বিচারের দায়িত্ব আমার নয়।
জানার আগ্রহ আছে এমন পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো। আজই বইপোকা থেকে অর্ডার দিন।