একাত্তরের ঠিক পরে জন্ম নেওয়া এক যুদ্ধশিশু, যার বাবার পরিচয় নেই, আর মা সমাজের নিষ্ঠুরতার কাছে হার মেনে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। জাকির তালুকদারের উপন্যাস ‘কুরসিনামা’ এই শিশুর বেড়ে ওঠার গল্প, যার শৈশব থেকে যৌবন কেটেছে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনার মধ্যে। প্রতিবাদ করতে সে শেখেনি, অপমানকে ভাগ্যের লিখন বলেই মেনে নিয়েছে।
কিন্তু সহ্যেরও সীমা আছে। একসময় সে বুঝতে পারে, পিতৃপরিচয়হীনতাই তার সব দুর্ভোগের মূলে। এই কাহিনির পাশাপাশি সমান্তরালে চলে মধ্যযুগের কবি শুকুর মামুদের ‘গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস’; গুপিচন্দ্রের পিতৃপরিচয় জানার ব্যাকুলতা মিশে যায় যুদ্ধশিশুর দীর্ঘশ্বাসে।
প্যারালাল টেক্সটের কৌশলে লেখা ১১২ পৃষ্ঠার এই সমকালীন উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সমাজের এক অনালোচিত ক্ষত এবং নিরীক্ষাধর্মী কথাসাহিত্যে আগ্রহী পাঠকের জন্য বিশেষ পাঠ।